Showing posts with label উদ্যম. Show all posts
Showing posts with label উদ্যম. Show all posts

Friday, April 10, 2020

স্কুটি চালিয়ে ছেলের জন্য ১৪০০ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি

স্কুটি চালিয়ে ছেলের জন্য ১৪০০ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি


করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রুখতে লকডাউন চলছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে । সেখানে ২১ দিনের লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোকজনের ঘরের বাইরে যাওয়া মানা। তাই বলে সন্তান ‘বিপদে’ আছে জেনে মা-তো চুপচাপ বসে থাকতে পারেন না। তাইতো তিন দিন স্কুটি চালিয়ে ১৪০০ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে আরেক রাজ‌্যে আটকে পড়া ছেলেকে উদ্ধার করলেন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক মা।

জানা গেছে, কারণ জানিয়ে স্থানীয় পুলিশের অনুমতি নিয়ে তেলেঙ্গানা রাজ‌্য থেকে গত সোমবার যাত্রা শুরু করেন মা রাজিয়া বেগম (৪৮)। উদ্দেশ‌্য পার্শ্ববর্তী রাজ‌্য অন্ধ্রপ্রদেশে আটকে পড়া ছেলেকে বাড়ি নিয়ে আসা। আর তা সফলভাবে শেষে করে গত বুধবার ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন রাজিয়া।

এ বিষয়ে রাজিয়া বেগমের বলেন, দুইচাকার যান স্কুটি চালিয়ে এতো রাস্তা পাড়ি দেওয়া একজন নারীর পক্ষে সহজ ছিল না, তবে ছেলেকে ঘরে আনার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা আমার সব ভয়কে দূরে ঠেলে দিয়েছিল। যাত্রা পথে আমি এমন সময় পার করেছি যখন দেখেছি রাতের আঁধারে কোথাও কেউ নেই। চারিদিকে শুধু নীরবতা।

জানা যায়, রাজিয়া বেগম নিজামাবাদ সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তার দুই সন্তানের একজন প্রকৌশলী গ্রাজুয়েট, অন‌্যজন ১৯ বছর বয়সী নাজিমুদ্দিন।

নাজিমুদ্দিন বন্ধুকে রেখে আসতে গত ১২ মার্চ নাজিমুদ্দিন তেলেঙ্গানার নিলোরের রাহামাতাবাদে যান। কিন্তু এর মধ‌্যে ভারতজুড়ে লকডাউন ঘোষণায় তিনি সেখানে আটকা পড়েন। আর ছোট ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের ভয়ে বড় ছেলেকে পাঠাননি রাজিয়া বেগম। সেখানে কীভাবে পৌঁছানো যায় সে পরিকল্পনায় প্রথমে গাড়ির কথা মাথায় এলেও, পরে তা ঝেরে ফেলে দুই চাকার স্কুটিতেই ভরসা খুঁজে পান।

অবশেষে স্কুটি চালিয়েই ভিন রাজ্যে আটকে পড়া ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে সফল হন দৃঢ় প্রত‌্যয়ী এই নারী।
-নিউজ১৮ বাংলা

Tuesday, January 21, 2020

ঘড়ি ও শিক্ষণীয় গল্প

ঘড়ি ও শিক্ষণীয় গল্প


মৃত্যুর পূর্বে একজন পিতা তার সন্তানকে কাছে ডেকে বললেন, 'এই নাও! এই ঘড়িটা আজ আমি তোমাকে দিলাম। আমাকে দিয়েছিলো তোমার দাদা। ঘড়িটা দুইশত বছর আগের। তবে, ঘড়িটা নেওয়ার আগে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে'।

ছেলেটা বললো, 'কি কাজ?'

- 'এই ঘড়িটা নিয়ে রাস্তার পাশের ঘড়ির দোকানে যাবে। তাদের বলবে যে এই ঘড়ি তুমি বিক্রি করতে চাও'।

ছেলেটা তা-ই করলো। ঘড়িটা রাস্তার পাশের একটা ঘড়ির দোকানে বিক্রি করতে নিয়ে গেলো। সে ফিরে এলে তার বাবা বললো, 'ঘড়ির দোকানদার কতো টাকা দিতে চাইলো ঘড়িটার বিনিময়ে?'

ছেলেটা বললো, 'একশো টাকা মাত্র। ঘড়িটা নাকি অনেক পুরাতন, তাই'।

বাবা বললেন, 'এবার পাশের কফি শপে যাও। তাদেরকে বলো যে তুমি এই ঘড়ি বিক্রি করতে চাও'।

ছেলেটা তা-ই করলো। ঘড়িটা নিয়ে পাশের এক কফি শপে গেলো৷ ফিরে এলে তার বাবা জানতে চাইলো, 'কি বললো ওরা?'

- 'ওরা তো এটা নিতেই চাইলো না। বললো, এতো পুরোনো, নোংরা ঘড়ি দিয়ে আমাদের কি হবে?'

বাবা হাসলেন। বললেন, 'এবার তুমি এই ঘড়ি নিয়ে জাদুঘরে যাও। তাদের বলো যে এই ঘড়িটা আজ থেকে দুই'শতো বছর আগের'।

ছেলেটা এবারও তা-ই করলো। সে ঘড়িটা নিয়ে জাদুঘরে গেলো। ফিরে এলে তার বাবা বললো, 'কি বললো ওরা?'

- 'ওরা তো ঘড়িটা দেখে চমকে উঠেছে প্রায়! তারা এই ঘড়ির দাম বাবদ এক লক্ষ টাকা দিতে চাইলো আমাকে'।

ছেলের কথা শুনে বাবা হাসলেন। বললেন, 'আমার সন্তান! আমি তোমাকে এটাই শিখাতে চাচ্ছিলাম যে, যারা তোমার মূল্য বুঝবে তারা ঠিকই তোমাকে জীবনে মূল্যায়ন করবে। আর যারা তোমার মূল্য বুঝবেনা, তারা কোনোদিনও তোমাকে মূল্যায়ন করবেনা। তাই, যারা তোমাকে মূল্যায়ন করবেনা তাদের দেখে হতাশ হয়ে পড়ো না। তারা তোমার মূল্য বুঝতে অক্ষম।
লিজি ভালসাকেজের সৌন্দর্য

লিজি ভালসাকেজের সৌন্দর্য


লিজি ভালসাকেজে জন্মেছিলেন টেক্সাসের অস্টিনে ১৯৮৯ তে। দেখতে রীতিমত ভয়ংকর, কুৎসিত, একটি চোখ অন্ধ। রঙ্গিন সভ্যতা স্বীকৃতি দিয়েছিল তিনি বিশ্বের সবচেয়ে কুৎসিৎ মেয়ে !

সবাই বলতো- আত্মহত্যা করতে, সবার থেকে লুকিয়ে থাকতে, মুখ ঢেকে রাখতে। কিন্তু সেইসব কিছু কানে না নিয়ে তখনই নিজের জীবনের চারটি লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছিলেন লিজি। প্রথমত- একজন সুবক্তা হওয়া। দ্বিতীয়ত- নিজের লেখা বই প্রকাশ করা। তৃতীয়ত- স্নাতক অর্জন করা। চতুর্থত- নিজের কেরিয়ার ও পরিবার তৈরি করা।

সেই থেকেই গত সাত বছরে ২০০-এর বেশি ওয়ার্কশপে বক্তৃতা দিয়েছেন তিনি। কীভাবে অভিনবত্বকে স্বীকৃতি দিতে হয়; বাধা, বিঘ্ন পেরিয়ে কীভাবে জীবনকে গ্রহণ করতে হয়; প্রতিকুল পৃথিবীতে ঘুরে দাঁড়াতে হয়; ভালোবাসতে হয়, এই সাত বছর ধরে সেই বিষয়ের ওপরই বক্তৃতা দিয়ে চলেছেন লিজি।

২০১০ এ লিজি লিখে ফেলেন তার আত্মজীবনীমুলক বই “Lizzie Beautiful”; ২০১২ সালে দ্বিতীয় বই “Be Beautiful, Be You”- যা ব্যাপক সাড়া পায় বিশ্বে। বইটির শুরুতে লিজি বলেন- ‘এপিয়ারেন্স নয়; মানুষকে মূল্যায়ন করতে হবে অর্জিত গুন দিয়ে।’ এই বছরই প্রকাশিত হতে চলেছে তার তৃতীয় বই।

TWITTER এ লিজির এক বন্ধু বলেছে- ‘This young woman is a very good example of what it means to be truly beautiful’ আরেক বন্ধু বলেছে- “লিজি কুৎসিত নয়। কুৎসিত হল লিজিকে দেখার আমাদের চোখ”লিজির মা বলেছেন- “I love Lizzie, I would be proud to be her mom ”অথচ সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষ হয়েও আমরা অল্পতে হতাশ হয়ে পড়ি।

Thursday, December 26, 2019

নাম আমার সুলতান গাছি, সত্তর বছর হইলো বয়স

নাম আমার সুলতান গাছি, সত্তর বছর হইলো বয়স

আমার নাম সুলতান, সত্তর বছর হইলো বয়স।
সারা এলাকার মানুষ এক নামে চিনে সুলতান গাছি হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধ শুধু হবার ১ বছর আগে থেইখা খেজুর গাছ বান্দি, এখন প্রায় ৫০ বছর পার হয়, কখনো একবারো বাদ যায়নাই, একলগে ২০০-৩০০ গাছ আমি একা বানছি, আমার ছেলে মেয়ে এই খেজুরের রসের টাকায় পড়াশুনা করাইছি।

দুইটা ছেলে বিদেশ পাঠাইছি, পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিয়া বাড়ি করছি এক তলার কাজ করছি, আমার একটা ছেলে খেজুরের রস ঢাকায় বেইচা ফেরার পথে এক্সিডেন্টে মারা গেছে, তাও এই বাধা বন্ধ করিনাই, সবাই আমারে ভালোবাসে খুব।আদর করে সবাই।

৪৯ বছর ধরে গাছ বান্ধি, আমার বাবায় ও বান্ধতো, কিন্তু এইবারের পর আর গাছ বান্ধমুনা, আর জানে কুলায় না, এইবারই শেষ, খুব ইচ্ছা ওমরা হজ্জ এ যামু, তারপর তো আর এসব মানাইবোনা, আর শরীলেও তো আর জোড় পাইনা। খুব ইচ্ছা আছিলো ইত্যাদির মধ্যে আমারে দেখাইবো, এই গাজীপুরে আমার চেয়ে পুরান গাছি একটাও নাই, পুরা কালীগঞ্জ এর গাছ আমি কাইটা বেড়াইছি, রস দিছি মানুষরে, মানুষ দোয়া করছে। এইবার শেষ, আর গাছ বান্ধমুনা, আমার শেষ ইচ্ছা আছিলো যদি ইত্যাদি আইসা আমার এই গাছগুলার ছবি তুইলা নিয়া যাইতো।

খুব সরল মনে কথা গুলো বলেছিলেন গাজীপুর কালীগঞ্জের এই গাছি সুলতান চাচা। এই বয়সেও গাছে চরে খেজুরের রস সংগ্রহ করে যেন একপ্রকার বাঁচিয়ে রাখছে গ্রাম বাংলার পুরোনো ঐতিহ্যে কে।

সুলতান চাচারা সব সময় ভালো থাকুক ।

কালীগঞ্জ ,গাজীপুর।
ক্রেডিট- কাউসার আহমেদ রোহান।

Tuesday, December 17, 2019

বেঁচে ফেরা দুই শিশুর সাথে দেখা করলেন রোনালদো

বেঁচে ফেরা দুই শিশুর সাথে দেখা করলেন রোনালদো


সাম্প্রতিক সময়ে আলবেনিয়ায় ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পে মারা যান ৫১ জন। পরিবারের সবাই মারা গেলেও অরেল এবং অ্যালেসিও নামের দুই শিশু বারান্দা থেকে লাফিয়ে রক্ষা পান।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর দু’জনকে কাছে টেনে নেন আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা। দু’জনই জানায় তাদের স্বপ্নের কথা। পর্তুগীজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কাছ থেকে একটি জার্সি সংগ্রহ করা তাদের আজীবনের স্বপ্ন।
প্রধানমন্ত্রী দুই শিশুকে নিয়ে আসেন ইতালিতে। দেখা করার সুযোগ করে দেন য়্যুভেন্তাসে খেলা রোনালদোর সঙ্গে। এ সময় ছিলেন ইতালিয়ান কিংবদন্তি জিয়ানলুইজি বুফনও। দুই শিশুর সঙ্গে অনেকক্ষণ সময় কাটান রোনালদো এবং বুফন। পরে নিজেদের স্বাক্ষরিত জার্সি উপহার দেন সময়ের দুই সেরা ফুটবলার।

Monday, September 2, 2019

দুই হাত ও দুই পা বিহীন জন্ম নেওয়া শিশুটি নিকোলাস ভুজিসিক

দুই হাত ও দুই পা বিহীন জন্ম নেওয়া শিশুটি নিকোলাস ভুজিসিক


১৯৮২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবর্ন শহরে দুই হাত ও দুই পা বিহীন জন্ম নেওয়া শিশুটির নাম ছিলো নিকোলাস ভুজিসিক। তার মা তাকে ১০ মাস গর্ভে রেখেছিলো জন্মের পর এমন শারীরীক অবস্থা দেখে সেই মাও তাকে বাড়িতে নিতে অস্বীকার করে, তবে পরক্ষনে তার বাবার অনুরোধে তাকে নিয়ে যেতে রাজি হন তার মা। আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠে ভুজিসিক, কিন্তু তার এই শারীরীক প্রতিবন্ধকতার জন্য চারপাশের মানুষের কাছে অনেকটাই উপহাসের বিষয় ছিলেন তিনি। কিন্তু তার বাবা তাকে বলতেন, "তুমি বিধাতার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য উপহার, শুধুমাত্র একটু ভিন্ন মোড়কে"। তুমি হতাশ হয়ো না ভুজিসিক। ওই যে শুরু হলো তার পথচলা আর থামতে হয়নি তাকে। নিজের উপর পূর্ন বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চললেন তিনি...

তিনি স্নাতক করেছেন দুইটি বিষয়ের উপর "অ্যাকাউন্টিং" এবং "ফাইন্যান্সিয়াল প্লানিং" যা হয়তো আমাদের মতো সাধারন সয়ং সম্পন্ন মানুষের পক্ষেও সহজ নয়। বর্তমানে তিনি সারা বিশ্বে পরিচিত মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে। তার বক্তৃতা শুনে হাজার হাজার মানুষ নিজেকে মোটিভেট করছে। তবে তিনি সবসময় ভাবতেন, হয়তো তিনি কখনো বিয়ে করতে পারবেন না, কারণ তার এই অঙ্গহীনতার জন্য হয়তো কোন নারী তাকে পছন্দ করবে না বা বিয়ে করবে না। কিন্তু তার সেই ধারনা ২০০৮ সালে ভুল প্রমান করে দিয়েছিলো এক রমনী। জাপানী বংশউদ্ভুত আমেরিকান ওই নারীর নাম ছিলো "ক্যানা মিহারা"। ক্যানা বলেন, "আমি যখন ওকে প্রথম দেখলাম তখন আমার মনে হয়েছিলো আমি যা চাই ওর ভিতরে তার সবই আছে। তারপর আমাদের চেনা জানা শুরু হয় এবং আমরা দুজন দুজনকে পছন্দ করে বিয়ে করি। একবার সাংবাদিকরা ক্যানা কে জিজ্ঞাসা করেছিলো - যদি আপনার সন্তানও ভুজিসিক এর মতো হয় তবে..... উত্তরে তিনি বলেছিলেন- তাহলে আমিও আরেকটা ভুজিসিক এর জন্ম দিবো......
এবার আসি মূল বিষয়ে ---


এই পৃথিবীতে আমরা অনেকেই হয়তো পাওয়া না পাওয়ার অনেক হিসাব করি। আমরা ভাবি আমরা এটা পাইনি, ওটা পাইনি, এমনকি এর জন্য সৃষ্টিকর্তা কে দোষারোপ করতেও বিন্দুমাত্র দেরি হয় না আমাদের। সত্যি বলতে সেই হিসেবে কিন্তু এই ভুজিসিক অনেক কিছুই পায় নি, কিন্তু তারপরেও সে থেমে নেই, নেই কোন আফসোস। হয়তো না পাওয়ার বেদনা তাকে কখনও স্পর্শও করতে পারেনি। আর এই যে ক্যানা মিহিরা.... ওনাকে আমরা কিভাবে চিন্তা করবো.... কিভাবে দেখবো ওদের সম্পর্কটা কে..? এমন একটা মানুষের কাছে নির্দিধায় কত সুখের সংসার করে যাচ্ছে সে। এই মেয়েটাও হয়তো কখনও ভাবেনা যে, সে কি পেলোনা... বরং সে কি পাচ্ছে সেটাই হয়তো তার কাছে মুখ্য বিষয়।
 আসলে সৃষ্টিকর্তা সবাইকে সব কিছু দেয় না। কিন্তু তাই বলে আমরা যদি আমাদের না পাওয়া জিনিস গুলো নিয়ে সবসময় আফসোস করি, দুশ্চিন্তা করি তবে দেখবেন জীবনটা বড় বিষাদময় হয়ে উঠবে এবং এর ফলে আপনি আপনার জীবনকে কখনোই উপভোগ করতে পারবেন না। না পাওয়ার শূন্যতা সবসময় আপনাকে তাড়িয়ে বেড়াবে। তবে একটু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করলেই, আমাদের যা আছে সেটা নিয়েই আমরা সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারি এই পৃথিবীতে।

Saturday, August 10, 2019

 ড. আতিউর রহমান এর মুখে তার জীবনী

ড. আতিউর রহমান এর মুখে তার জীবনী


একটা গাভী আর কয়েকটা খাসি আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওগুলো মাঠে চরাতাম। বিকেল বেলা গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতাম। দুধ বিক্রির আয় থেকে সঞ্চিত আট টাকা দিয়ে আমি পান-বিড়ির দোকান দেই।
অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান- সাবেক বাংলাদেশ ব্যংক গভর্নর ।
আমার জন্ম জামালপুর জেলার এক অজপাড়াগাঁয়ে। ১৪ কিলোমিটার দূরের শহরে যেতে হতো পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে। পুরো গ্রামের মধ্যে একমাত্র মেট্রিক পাস ছিলেন আমার চাচা মফিজউদ্দিন। আমার বাবা একজন অতি দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক। আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন। কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো আমাদের।

আমার দাদার আর্থিক অবস্থা ছিলো মোটামুটি। কিন্তু তিনি আমার বাবাকে তাঁর বাড়িতে ঠাঁই দেননি। দাদার বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটা ছনের ঘরে আমরা এতগুলো ভাই-বোন আর বাবা-মা থাকতাম। মা তাঁর বাবার বাড়ি থেকে নানার সম্পত্তির সামান্য অংশ পেয়েছিলেন। তাতে তিন বিঘা জমি কেনা হয়। চাষাবাদের জন্য অনুপযুক্ত ওই জমিতে বহু কষ্টে বাবা যা ফলাতেন, তাতে বছরে ৫/৬ মাসের খাবার জুটতো। দারিদ্র্য কী জিনিস, তা আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি- খাবার নেই, পরনের কাপড় নেই; কী এক অবস্থা !

আমার মা সামান্য লেখাপড়া জানতেন। তাঁর কাছেই আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি। তারপর বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। কিন্তু আমার পরিবারে এতটাই অভাব যে, আমি যখন তৃতীয় শ্রেণীতে উঠলাম, তখন আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলো না। বড় ভাই আরো আগে স্কুল ছেড়ে কাজে ঢুকেছেন। আমাকেও লেখাপড়া ছেড়ে রোজগারের পথে নামতে হলো।

আমাদের একটা গাভী আর কয়েকটা খাসি ছিল। আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওগুলো মাঠে চরাতাম। বিকেল বেলা গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতাম। এভাবে দুই ভাই মিলে যা আয় করতাম, তাতে কোনরকমে দিন কাটছিল। কিছুদিন চলার পর দুধ বিক্রির আয় থেকে সঞ্চিত আট টাকা দিয়ে আমি পান-বিড়ির দোকান দেই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে বসতাম। পড়াশোনা তো বন্ধই, আদৌ করবো- সেই স্বপ্নও ছিল না !

এক বিকেলে বড় ভাই বললেন, আজ স্কুল মাঠে নাটক হবে। স্পষ্ট মনে আছে, তখন আমার গায়ে দেওয়ার মতো কোন জামা নেই। খালি গা আর লুঙ্গি পরে আমি ভাইয়ের সঙ্গে নাটক দেখতে চলেছি। স্কুলে পৌঁছে আমি তো বিস্ময়ে হতবাক ! চারদিকে এত আনন্দময় চমৎকার পরিবেশ ! আমার মনে হলো, আমিও তো আর সবার মতোই হতে পারতাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে আবার স্কুলে ফিরে আসতে হবে।

নাটক দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড় ভাইকে বললাম, আমি কি আবার স্কুলে ফিরে আসতে পারি না ? আমার বলার ভঙ্গি বা করুণ চাহনি দেখেই হোক কিংবা অন্য কোন কারণেই হোক কথাটা ভাইয়ের মনে ধরলো। তিনি বললেন, ঠিক আছে কাল হেডস্যারের সঙ্গে আলাপ করবো।

পরদিন দুই ভাই আবার স্কুলে গেলাম। বড় ভাই আমাকে হেডস্যারের রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ভিতরে গেলেন। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট শুনছি, ভাই বলছেন আমাকে যেন বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগটুকু দেওয়া হয়। কিন্তু হেডস্যার অবজ্ঞার ভঙ্গিতে বললেন, সবাইকে দিয়ে কি লেখাপড়া হয় ! স্যারের কথা শুনে আমার মাথা নিচু হয়ে গেল। যতখানি আশা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম, স্যারের এক কথাতেই সব ধুলিস্মাৎ হয়ে গেল। তবু বড় ভাই অনেক পীড়াপীড়ি করে আমার পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি যোগাড় করলেন। পরীক্ষার তখন আর মাত্র তিন মাস বাকি। বাড়ি ফিরে মাকে বললাম, আমাকে তিন মাসের ছুটি দিতে হবে। আমি আর এখানে থাকবো না। কারণ ঘরে খাবার নেই, পরনে কাপড় নেই- আমার কোন বইও নেই, কিন্তু আমাকে পরীক্ষায় পাস করতে হবে।

মা বললেন, কোথায় যাবি ? বললাম, আমার এককালের সহপাঠী এবং এখন ক্লাসের ফার্স্টবয় মোজাম্মেলের বাড়িতে যাবো। ওর মায়ের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। যে ক’দিন কথা বলেছি, তাতে করে খুব ভালো মানুষ বলে মনে হয়েছে। আমার বিশ্বাস, আমাকে উনি ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।

দুরু দুরু মনে মোজাম্মেলের বাড়ি গেলাম। সবকিছু খুলে বলতেই খালাম্মা সানন্দে রাজি হলেন। আমার খাবার আর আশ্রয় জুটলো; শুরু হলো নতুন জীবন। নতুন করে পড়াশোনা শুরু করলাম। প্রতিক্ষণেই হেডস্যারের সেই অবজ্ঞাসূচক কথা মনে পড়ে যায়, জেদ কাজ করে মনে; আরো ভালো করে পড়াশোনা করি।

যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হলো। আমি এক-একটি পরীক্ষা শেষ করছি আর ক্রমেই যেন উজ্জীবিত হচ্ছি। আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাচ্ছে। ফল প্রকাশের দিন আমি স্কুলে গিয়ে প্রথম সারিতে বসলাম। হেডস্যার ফলাফল নিয়ে এলেন। আমি লক্ষ্য করলাম, পড়তে গিয়ে তিনি কেমন যেন দ্বিধান্বিত। আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। তারপর ফল ঘোষণা করলেন। আমি প্রথম হয়েছি ! খবর শুনে বড় ভাই আনন্দে কেঁদে ফেললেন। শুধু আমি নির্বিকার- যেন এটাই হওয়ার কথা ছিল।

বাড়ি ফেরার পথে সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। আমি আর আমার ভাই গর্বিত ভঙ্গিতে হেঁটে আসছি। আর পিছনে এক দল ছেলেমেয়ে আমাকে নিয়ে হৈ চৈ করছে, স্লোগান দিচ্ছে। সারা গাঁয়ে সাড়া পড়ে গেল ! আমার নিরক্ষর বাবা, যাঁর কাছে ফার্স্ট আর লাস্ট একই কথা- তিনিও আনন্দে আত্মহারা; শুধু এইটুকু বুঝলেন যে, ছেলে বিশেষ কিছু একটা করেছে। যখন শুনলেন আমি ওপরের কাসে উঠেছি, নতুন বই লাগবে, পরদিনই ঘরের খাসিটা হাটে নিয়ে গিয়ে ১২ টাকায় বিক্রি করে দিলেন। তারপর আমাকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর গেলেন। সেখানকার নবনূর লাইব্রেরি থেকে নতুন বই কিনলাম।

আমার জীবনযাত্রা এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আমি রোজ স্কুলে যাই। অবসরে সংসারের কাজ করি। ইতোমধ্যে স্যারদের সুনজরে পড়ে গেছি। ফয়েজ মৌলভী স্যার আমাকে তাঁর সন্তানের মতো দেখাশুনা করতে লাগলেন। সবার আদর, যত্ন, স্নেহে আমি ফার্স্ট হয়েই পঞ্চম শ্রেণীতে উঠলাম। এতদিনে গ্রামের একমাত্র মেট্রিক পাস মফিজউদ্দিন চাচা আমার খোঁজ নিলেন। তাঁর বাড়িতে আমার আশ্রয় জুটলো।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আমি দিঘপাইত জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হই। চাচা ওই স্কুলের শিক্ষক। অন্য শিক্ষকরাও আমার সংগ্রামের কথা জানতেন। তাই সবার বাড়তি আদর-ভালোবাসা পেতাম।

আমি যখন সপ্তম শ্রেণী পেরিয়ে অষ্টম শ্রেণীতে উঠবো, তখন চাচা একদিন কোত্থেকে যেন একটা বিজ্ঞাপন কেটে নিয়ে এসে আমাকে দেখালেন। ওইটা ছিল ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞাপন। যথাসময়ে ফরম পুরণ করে পাঠালাম। এখানে বলা দরকার, আমার নাম ছিল আতাউর রহমান। কিন্তু ক্যাডেট কলেজের ভর্তি ফরমে স্কুলের হেডস্যার আমার নাম আতিউর রহমান লিখে চাচাকে বলেছিলেন, এই ছেলে একদিন অনেক বড় কিছু হবে। দেশে অনেক আতাউর আছে। ওর নামটা একটু আলাদা হওয়া দরকার; তাই আতিউর করে দিলাম।

আমি রাত জেগে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নিলাম। নির্ধারিত দিনে চাচার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে রওনা হলাম। ওই আমার জীবনে প্রথম ময়মনসিংহ যাওয়া। গিয়ে সবকিছু দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ ! এত এত ছেলের মধ্যে আমিই কেবল পায়জামা আর স্পঞ্জ পরে এসেছি ! আমার মনে হলো, না আসাটাই ভালো ছিল। অহেতুক কষ্ট করলাম। যাই হোক পরীক্ষা দিলাম; ভাবলাম হবে না। কিন্তু দুই মাস পর চিঠি পেলাম, আমি নির্বাচিত হয়েছি। এখন চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে যেতে হবে।

সবাই খুব খুশি; কেবল আমিই হতাশ। আমার একটা প্যান্ট নেই, যেটা পরে যাবো। শেষে স্কুলের কেরানি কানাই লাল বিশ্বাসের ফুলপ্যান্টটা ধার করলাম। আর একটা শার্ট যোগাড় হলো। আমি আর চাচা অচেনা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম। চাচা শিখিয়ে দিলেন, মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমি যেন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলি: ম্যা আই কাম ইন স্যার ? ঠিকমতোই বললাম। তবে এত উচ্চস্বরে বললাম যে, উপস্থিত সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।

পরীক্ষকদের একজন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এম. ডাব্লিউ. পিট আমাকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে সবকিছু আঁচ করে ফেললেন। পরম স্নেহে তিনি আমাকে বসালেন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি আমার খুব আপন হয়ে গেলেন। আমার মনে হলো, তিনি থাকলে আমার কোন ভয় নেই। পিট স্যার আমার লিখিত পরীক্ষার খাতায় চোখ বুলিয়ে নিলেন। তারপর অন্য পরীক্ষকদের সঙ্গে ইংরেজিতে কী-সব আলাপ করলেন। আমি সবটা না বুঝলেও আঁচ করতে পারলাম যে, আমাকে তাঁদের পছন্দ হয়েছে। তবে তাঁরা কিছুই বললেন না। পরদিন ঢাকা শহর ঘুরে দেখে বাড়ি ফিরে এলাম। যথারীতি পড়াশোনায় মনোনিবেশ করলাম। কারণ আমি ধরেই নিয়েছি, আমার চান্স হবে না।

হঠাৎ তিন মাস পর চিঠি এলো। আমি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছি। মাসে ১৫০ টাকা বেতন লাগবে। এর মধ্যে ১০০ টাকা বৃত্তি দেওয়া হবে, বাকি ৫০ টাকা আমার পরিবারকে যোগান দিতে হবে। চিঠি পড়ে মন ভেঙে গেল। যেখানে আমার পরিবারের তিনবেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, আমি চাচার বাড়িতে মানুষ হচ্ছি, সেখানে প্রতিমাসে ৫০ টাকা বেতন যোগানোর কথা চিন্তাও করা যায় না !

এই যখন অবস্থা, তখন প্রথমবারের মতো আমার দাদা সরব হলেন। এত বছর পর নাতির (আমার) খোঁজ নিলেন। আমাকে অন্য চাচাদের কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন, তোমরা থাকতে নাতি আমার এত ভালো সুযোগ পেয়েও পড়তে পারবে না ? কিন্তু তাঁদের অবস্থাও খুব বেশি ভালো ছিল না। তাঁরা বললেন, একবার না হয় ৫০ টাকা যোগাড় করে দেবো, কিন্তু প্রতি মাসে তো সম্ভব নয়। দাদাও বিষয়টা বুঝলেন।

আমি আর কোন আশার আলো দেখতে না পেয়ে সেই ফয়েজ মৌলভী স্যারের কাছে গেলাম। তিনি বললেন, আমি থাকতে কোন চিন্তা করবে না। পরদিন আরো দুইজন সহকর্মী আর আমাকে নিয়ে তিনি হাটে গেলেন। সেখানে গামছা পেতে দোকানে দোকানে ঘুরলেন। সবাইকে বিস্তারিত বলে সাহায্য চাইলেন। সবাই সাধ্য মতো আট আনা, চার আনা, এক টাকা, দুই টাকা দিলেন। সব মিলিয়ে ১৫০ টাকা হলো। আর চাচারা দিলেন ৫০ টাকা। এই সামান্য টাকা সম্বল করে আমি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হলাম। যাতায়াত খরচ বাদ দিয়ে আমি ১৫০ টাকায় তিন মাসের বেতন পরিশোধ করলাম। শুরু হলো অন্য এক জীবন।

প্রথম দিনেই এম. ডাব্লিউ. পিট স্যার আমাকে দেখতে এলেন। আমি সবকিছু খুলে বললাম। আরো জানালাম যে, যেহেতু আমার আর বেতন দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাই তিন মাস পর ক্যাডেট কলেজ ছেড়ে চলে যেতে হবে। সব শুনে স্যার আমার বিষয়টা বোর্ড মিটিঙে তুললেন এবং পুরো ১৫০ টাকাই বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। সেই থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এস.এস.সি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করলাম এবং আরো অনেক সাফল্যের মুকুট যোগ হলো।

আমার জীবনটা সাধারণ মানুষের অনুদানে ভরপুর। পরবর্তীকালে আমি আমার এলাকায় স্কুল করেছি, কলেজ করেছি। যখন যাকে যতটা পারি, সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতাও করি। কিন্তু সেই যে হাট থেকে তোলা ১৫০ টাকা; সেই ঋণ আজও শোধ হয়নি। আমার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করলেও সেই ঋণ শোধ হবে না!

Wednesday, July 24, 2019

বিয়ার গ্রিলসের কাজ হলো অসম্ভব কে সম্ভব করা!

বিয়ার গ্রিলসের কাজ হলো অসম্ভব কে সম্ভব করা!


রাজনৈতিক এক পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা। কিন্তু, একদমই পারিবারিক ভাবধারায় বিশ্বাস ছিল না তাঁর। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়। ‘ম্যাকগাইভার’ ও ‘দ্য এ টিম’ গুলে খেতেন। শৈশবেই বাবার কাছ থেকে নৌকা চালনা ও পর্বতারোহনের খুঁটিনাটি শিখে ফেলেন। যখন আট বছর বয়স, তখন বাবা এভারেস্ট পর্বতের একটা ছবি দেন। ব্যস, সেই ছবির চূড়ায় দেখাটাকেই নিজের ধ্যান জ্ঞান বানিয়ে ফেলেন বেয়ার গ্রিলস...

পরের ১৫ টা বছর নিজের স্বপ্নকে পুঁজি করেই পরিশ্রম করে গেছেন। ফলাফল, মাত্র ২৩ বছর বয়সে সবচেয়ে কম বয়সী পর্বতারোহী হিসেবে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় নাম লেখান। চারবার এভারেস্টে উঠে তিনি গিনেস বুকেও নাম লেখান। ব্রিটেনের রয়্যাল মেরিন রিজার্ভে তাঁকে সম্মানজনক লেফটেন্যান্ট কর্নেল উপাধি দেওয়া হয়।

ভদ্রলোকের পুরো নাম এডওয়ার্ড মাইকেল গ্রিলস। বোন লারা ডাক নাম দিয়েছিলেন বেয়ার। ব্যস, সেই থেকে তিনি বেয়ার গ্রিলস। ডিসকভারি চ্যানেলের দর্শকরা তাঁকে বেশ ভাল করেই চেনেন। পর্দায় তাঁকে ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ অনুষ্ঠানে অসাধ্য সব অ্যাডভেঞ্চার করতে কিংবা দুর্গম সব পথ পাড়ি দিতে দেখা যায়। যদি অনুষ্ঠানটা আপনি দেখে থাকেন তাহলে ‘আমি বেয়ার গ্রিলস। আমি আপনাদের দেখাব কীভাবে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ থেকে বেঁচে ফিরে আসতে হয়।’-এই ডায়লোগটির সাথে খুবই পরিচিত।

টিকে থাকার জন্য তিনি সব করতে পারেন। কিছু না খেয়ে দিনের পর দিন কাটাতে পারেন, কিংবা বেঁচে থাকার তাগিদে অখ্যাদ্য, কুখাদ্য, যাচ্ছেতাইও খেয়ে ফেলতে পারেন। সত্যি, টিভির পর্দায় তাঁকে দেখলে মনে হয় অসম্ভবকে সম্ভব করাই তাঁর কাজ। এসব কত হাজারো রকমের ইনজুরিতে যে তাঁকে পড়তে হয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। শরীরের কোনো অংশের হাড় ভেঙে যাওয়া সাপখোপ, বিষাক্ত মাকড়শা, বাদুরের কামড় খাওয়া তাঁর জন্য কোনো ঘটনাই না।
যদিও এতদূর আসাটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তিনি তিন বছর ব্রিটিশ আর্মির অধীনে স্পেশাল এয়ার সার্ভিসে কাজ করেন। মাউন্ট এভারেস্টে ওঠার বছর খানেক আগে এক প্যারাসুট দুর্ঘটনায় মারাত্মক ভাবে আহত হন তিনি। শরীরের তিনটি জায়গার হাড় ভেঙে যায়। বাকিটা জীবন হুইলচেয়ারে কাটাবেন, এমন গুঞ্জনও ছিল। যদিও, তিনি মাত্র ১৩ মাসের মধ্যে হাঁটা শুরু করেন।

দুর্ঘটনার ১৮ মাস বাদে রীতিমত এভারেস্ট জয় করে ফেলেন। চূড়ায় উঠতে তিনি সময় নেন ৯০ দিন। দিনটা ছিল ১৯৯৮ সালের ১৬ মে। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৪। এত কম বয়সে কেউই আগে এভারেস্টে ‍চূড়ায় উঠতে পারেনি। যদিও পরবর্তীতে, জেমস অ্যালেন ২২ ও রব গওন্টলেট ১৯ বছর বয়সে এভারেস্টে উঠে এই রেকর্ড ভেঙে দেন।

টেলিভিশনের পর্দায় বেয়ার গ্রিলস শুরু করেন বিজ্ঞাপন দিয়ে। ব্রিটিশ আর্মির প্রচারণামূলক কিংবা ডিওডেরেন্টের বিজ্ঞাপনে তাঁকে দেখা যায়। ২০০৬ সারে তিনি ছয় বছরের জন্য চ্যানেল ফোরের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন।  ২০১২ সালের মার্চে ডিসকভারি চ্যানেলের সাথে বনিবনা না হওয়ায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে আবারও ফিরেছেন। আর ‘ম্যান ভার্সেন ওয়াইল্ড’-এর কল্যানে এখন তাঁকে সারা বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশের মানুষ চেনে।

এর বাইরেও কিন্তু বেয়ার গ্রিলসের গুনের কোনো কমতি নেই। তিনি কারাটেতে একজন ব্ল্যাক বেল্টধারী। পড়াশোনাতেও দারুণ ছিলেন, ছিলেন ব্রিটেনের স্বনামধন্য এটন কলেজে। হলিউডের ‘ক্ল্যাশ অব দ্য টাইটান’ সিনেমায় কাজ করার জন্য গ্রিলসকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
এখন অবধি বেয়ার গ্রিলসের লেখা ১১ টি বই বাজারে এসেছে। এর মধ্যে ‘ফেসিং আপ’ ছিল তাঁর লেখা প্রথম বই। বইটি ব্রিটেনের সেরা ১০ টি বেস্ট সেলার বইয়ের একটি ছিল। পরে ‘দ্য কিড হু ক্লাইম্বড মাউন্ট এভারেস্ট’ নামে বইটি যুক্তরাষ্ট্রেও প্রকাশিত হয়।

২০০৯ সালে তিনি মাত্র ৩৫ বছর বয়সে স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের চিফ স্কাউট হিসেবে নিয়োগ পান। এত কম বয়সে এই সম্মানজনক পদে আগে কখনোই কেউ নিয়োগ পায়নি।

ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই সন্তানের বাবা। তাঁর ছেলেও কিন্তু কম অ্যাডভেঞ্চারাস না। মাত্র সাত বছর বয়সেই সুইমিং পুলে ডুবতে থাকা এক তরুণীর জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি। এই না হলে বাপ কা বেটা!...

Saturday, May 25, 2019

সেই ছেলেটি আজ বিসিএস ক্যাডার

সেই ছেলেটি আজ বিসিএস ক্যাডার


কুড়িগ্রামের ছেলে আবু সায়েম। বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় যাওয়ার মতো ভালো কোনো পোশাক ছিল না তাঁর। এক বন্ধু তখন পাশে এসে দাঁড়ায়। আর চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো দিন সকালে নাশতা করেননি। শুধু দুপুরের দিকে পাঁচ টাকা দামের একটা পাউরুটি খেয়ে দিন পার করতেন। আর আজ তিনিই বিসিএস ক্যাডার।
আবু সায়েমের বাবা অন্যের জমিতে কাজ করতেন। সে আয়ে তিনবেলা ভাত জুটত না। বাড়তি আয়ের জন্য মা কাঁথা সেলাই করতেন। তারপর সে কাঁথা বাড়ি বাড়ি বিক্রি করতেন। কত দিন কত রাত সায়েম যে না খেয়ে কাটিয়েছেন, সে হিসাব নিজেও জানেন না।
আজ সায়েমের কষ্টের দিন ঘুচেছে। ৩৫তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সমাজকল্যাণে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে সায়েম বলেন, ‘মা অন্যের কাঁথা সেলাই করে দিতেন। প্রতি কাঁথা হিসেবে মজুরি পেতেন ৭০ থেকে ১০০ টাকা। মায়ের ১০টি আঙুলে জালির মতো অজস্র ছিদ্র। আজ আমার মায়ের জীবন সার্থক।’

Thursday, May 9, 2019

৩৬ তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত ফাল্গুনী বাগচী'র গল্প

৩৬ তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত ফাল্গুনী বাগচী'র গল্প

৩৬ তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত ফাল্গুনী বাগচী জাতীয় ভার্সিটির স্টুডেন্ট । অথচ ইংরেজি থেকে অনার্স মাস্টার্স করা ফাল্গুনীকে নিয়ে কেউ এতো বড় চিন্তা করে নাই ।
ফাল্গুনী ঢাকায় এসে কোচিং করার সুযোগ পায় নি । পড়াশুনা করেছে ফরিদপুরে থেকেই । শুধু নিজের বিশ্বাসের উপর ভর করে এতো বড় জায়গায় পৌঁছে গেছে সে ।
বিশ্বাসের নমুনাটা দেখাই । 
ক্যাম্পাসে থাকতে এক জুনিয়রের সাথে দেখা হলো সানমারে । তখন সে থার্ড ইয়ার শেষ করে ফোর্থ ইয়ারে পা দিয়েছে । হাতে ব্যাংক জবের বই । তার স্বপ্ন বেশি কিছু না । পড়াশুনা শেষ করেই বাংলাদেশ ব্যাংকে জয়েন করতে চায় । আর তাই হাতে সবসময় একটা না একটা বই থাকবেই ।
ঢাকা ভার্সিটিতে আসুন । 
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে যান । 
লম্বা লাইন দিয়ে ছেলে মেয়েরা দাঁড়িয়ে আছে । এরা প্রত্যেকেই এই বিলিভটা নিয়েই এসেছে যে ... one day he/ she will be someone ..
নাহ শুধু সিভিল সার্ভিস নিয়ে আজকাল কেউ স্বপ্ন দেখে না । 
বহুত ছেলেমেয়ে পাবেন ছাত্র অবস্থাতেই নিজের একটা আইডেন্টিটি নিয়ে কাজ করছে ।
বক্সার মোহাম্মদ আলী একটা কথা বলেছিলেন । কথাটা ছিল ... i will show you how great i am ...
খুবই বোল্ড একটা কথা । 
এই একটা কথা দিয়েই মাটি কাপিয়ে দেয়া যায় । 
এই যে আমরা প্রতিদিন টিউশনের গল্পগুলো করি 
এই যে আমরা রেজাল্ট নিয়ে ডিপ্রেশনে থাকি 
এই যে আমাদের এতো টানা হেচড়া 
এই যে যে এতো এতো ব্যার্থতার গল্প
সবগুলোর পেছনে কিন্তু টার্গেট একটাই । সেটা কি ? সেটা হলো , একদিন আমি দেখায় দিবো ... how great i am ...
এই ছেলেমেয়েগুলাই কিন্তু ক্রাইসিসের মধ্য দিয়ে কথাটার সত্যতা প্রমান করে ।
মেরিন সাইন্সের এক ভাইকে দেখতাম পরীক্ষার আগে টানা চার রাত জেগে পড়াশুনা করে কোর্সে এ প্লাস নিয়ে আসে । ঘুমাতো খুব কম ।
এটাই হচ্ছে দুনিয়ার সব থেকে বড় বিলিভ । 
আর কেউ পারুক বা না পারুক আমি পারি । আমরা পারি । 
এরা কোয়ালিফিকেশনের পরোয়া করে না । কোয়ালিফিকেশন এদের দেখে কোয়ালিফাইড হয় ।
এদের সিভি লেখাটা আর দশটা সাধারন ছেলেদের মতো নয় । তাঁদের সিভিতে একটা কথা প্রচ্ছন্ন ভাবে থেকে যায় । কথাটা হলো ... i will show you how great i am ...
এটাই গ্রেটনেস ।
yap ...one day i will show you how great i am ...
পারলে ঠেকাও 
Arafat Abdullah (মধ্যরাতের অশ্বারোহী)
University Of Chittagong