Showing posts with label রঙিন দুনিয়া. Show all posts
Showing posts with label রঙিন দুনিয়া. Show all posts

Friday, April 3, 2020

বৌ পাগল সুখি মানুষ

বৌ পাগল সুখি মানুষ


আমার বিয়ের ১৯ দিন আগে আমি প্রথম চাকরি পাই। মাত্র ১৯ দিন আগে। প্রেম করেছিলাম আপনাদের ভাবীর সাথে। এক সাথেই পড়াশোনা করতাম। আমার হয়ত বিয়ের জন্য সঠিক সময় হয় নাই তখন কিন্তু তনু মানে আপনাদের ভাবীর তখন বিয়ের জন্য পারফেক্ট সময় ছিলো। তাই চাকরিটা পেয়েই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলাম। আব্বা আম্মাও বেশ সাপোর্ট দিলো। তবে আমার বেতন একটা সংসার টানার জন্য যথেষ্ট ছিলো না। একদমই না। তাই আমি একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম বিয়ের ব্যাপারে ।

যাই হোক নতুন অফিসে কেউ সিগারেট খেতেও আমাকে ডাক দিতো না। নতুন হিসেবে অফিসে আমাকে তেমন কেউ পাত্তাই দিত না। আমিই সেধে সেধে গিয়ে কথা বলতাম।অফিস শেষে মোটামুটি সবাইকে দেখতাম নিচে দাঁড়িয়ে সিগারেট খায়। গল্প করে। কিন্তু একজন সিনিয়ির স্যারকে (রফিক) কখনো দাড়াতে দেখতাম না। অফিস ছুটির পর দেখতাম সে ডানে বামে না দেখে সোজা বাসার দিকে হাঁটা দিতো।
একদিন খেয়াল করলাম আমাদের এক সিনিয়র ভাই তাকে সিগারেট খেতে ডাকছে। ঐ স্যার আসলেন না। একতা ভদ্রতা মূলক হাসি দিয়ে দুঃখিত বলে চলে গেলেন।

উনি চলে যাওয়ার সাথে সাথে বাকিরা বলে উঠলে “ এমন বৌ পাগলা বেডা জীবনেও দেখি নাই” কথাটা আমার কাছে কিছুটা আপত্তিকরই মনে হলো। নতুন তাই শুধু শুনলাম কোনো কথা বললাম না।
তার দুদিন পর অফিসের সবাই শুক্রবারে প্লান করলো ঘুরতে যাবে । রফিক স্যারকে আমন্ত্রণ জানানো হলো আর সে সেদিনও বলল

“না রে ভাই সম্ভব না। আপনাদের ভাবীর জন্মদিন গেলো মঙ্গলবার । অফিসের কারনে সেদিন দেরী করে বাসায় ফিরেছি। কাল একটু ঘুরতে যাবো।”
সেদিন আমার কাছে বেশ ইন্তারেস্টিং লাগলো। আমার পাশের টেবিলে বসা লোকটা বলল
- উনারে যে কে ডাকতে যায়। জানে যে উনি যাবে না হুদাই মুখের শব্দ অপচয় করে।

সেদিন একটু সাহস করে কথা বললাম আমি।
- স্যার খুব পরিবারের প্রতি দুর্বল। তাই না?
- আরে ধুর মিয়া কিসের দুর্বল? আমাদের কি বৌ সংসার নাই নাকি? তার মত এমন বৌ পাগল না আমরা।

একটা চা বিড়ি খায় না। কেমন যেনো নিরামিষ টাইপ।
- অনেকেই তো খায় না।
- আরে মিয়া আগে খাইতো। বিয়ার পর থেকে খায় না। আগে আমাদের সাথে এদিক সেদিক ঘুরতেও যাইতো বিয়ের পর থেকে কিছুই করে না। বেটি মাইনসের মতন ঢং করে। গা টা জ্বলে এগুলা দেখলে।

আমি আর কিছু বললাম না। তার কয়দিনপর আমার বিয়ের কার্ড নিয়ে রফিক স্যারের কাছে গেলাম। স্যার খুব অমায়িক মানুষ। আমাকে দেখে এত সিনিয়র মানুষ উঠে হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন। আমাকে তার ডেস্কে বসিয়ে বললেন

- নতুন জীবন শুরু করছেন। নিজেও ভালো থাকেন,তাকেও ভালো রাখেন।
- জ্বী স্যার। স্যার আমি আপনাকে পরিবারবর্গ দাওয়াত করেছি। আমি জানি আপনি ম্যাডামকে ছাড়া কোথাও যান না। তাই ...

- হাহাহাহা না বিষয়টা এমন না। তাকে ছাড়াও চলাফেরা করি কিন্তু সেটা খুব কম। এই অফিসে আমাকে অনেকে বৌ পাগলা বলে। সেটা আমি জানি কিন্তু খারাপ লাগে না। কখনো উত্তরও দেই না।
- জ্বী স্যার।

- শুনো ইফতি। সবাই যখন প্রতিদিন ১০০ টাকার সিগারেট খায় আমি তখন ঐ ১০০ টাকা দিয়ে প্রতিদিন তোমাদের ম্যাডামের জন্য টুকিটাকি কিছু কিনে বাসায় ফিরি। মেয়ে মানুষ এসব খুব পছন্দ করে। মাঝে মাঝে ১০০ টাকাও খরচ হয় না। ১০ টাকার ফুল নিলেই খুশি। আমি চাইলেই রাত করে বাসায় ফিরতে পারি। সবার সাথে আড্ডা দিতে পারি।

কিন্তু যেদিন থেকে ভাবছি কেউ আমার জন্য সকাল থেকে অপেক্ষায় আছে। শুধু ঘরের কাজ করার জন্য বিয়ে করি নাই। তারও ইচ্ছা করে আমার সাথে সারাদিনের অত শত গল্প করতে। সে শুধু আমার সাথে রাতে ঘুমানোর কোন প্রোডাক্ট না , সেদিন থেকে আমি তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে গিয়েছি। তাকে সময় দিয়েছি। আমি চাইলেই বাইরে একা ঘুরতে যেতে পারি। সে আমাকে মানা করবে না এমনকি আমাকে সে ই মাঝে মাঝে ঘুরতে যেতে বলে তাকে রেখে। আমিই আসি না। আচ্ছা ইফতি বলেন তো তার কি আমার সাথে ঘুরতে ইচ্ছা হতে পারে না? সব শখ কি শুধুই পুরুষ মানুষের?

এই মেয়েগুলারও ইচ্ছা করে ...বুঝছেন? আমাকে বৌ পাগল বললে আমি একদমই রাগ হই না। তাছাড়া যেই মানুষ আমার সাথে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত থাকবে তার জন্য পাগল হওয়া আমি যৌক্তিক মনে করি । বন্ধু কলিগ কেউই মরার সময় মুখে পানি দিবে না। যে দিবে সে হলো স্ত্রী। যে আমাকে ভালো রাখার চেষ্টা করবে সে হলো আমার স্ত্রী।

তাই তাকে ভালো রাখাটা আমার কাছে মূখ্যম। আমি তাকে ভালো রাখতে পারি বলে সে সারাদিন আমার ঘরকে ভালো রাখে। আমার বাবা মা কে ভালো রাখেন। পারিবারিক দিক দিয়ে আমি সুখী।

কয়েক মিনিটের জন্য আমি স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম। লোকটার দিকে ভালো মত তাকালে বুঝা যায় সে আসলেও ভালো আছেন। আর এই ভাল রাখাটা খুব সহজ প্রক্রিয়া। আমি স্যার কে ধন্যবাদ বলে বের হয়ে আসার সময় স্যার বললেন

- ইফতি আমি আশা করি একদিন আপনার সুখে থাকার গল্পও কেউ গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনবে , শিখবে আর সে নিজেও ভালো থাকার চেষ্টা করবে।
আমি সেদিন স্যারের কথা শুনে রুম থেকে বের হয়ে কেঁদে ফেললাম। অনেক শক্তি পেলাম। অল্প বেতন পেয়েও সাংসারিক জীবনে সুখে থাকার উপায় শিখলাম। বিয়ের ভয়টা কেটে গেলো।

আসলেও ভাই সারাদিন অফিস করে যদি স্ত্রীর গোমড়া মুখ দেখেন তাহলে তো ফাস্ট্রেশনে ভুগবেনই। একটা পুরুষ মানুষ কে শারীরিক আর মানসিক ভাবে সুস্থ রাখতে তার স্ত্রী ই যথেষ্ঠ। যে সুস্থ রাখবে তাকে আগে ভালো রাখা উচিৎ ...

আমি নিজেও ৬ বছর ধরে এভাবেই চলে আসছি। ভালো ও আছি। দিনশেষে যখন তনুর মুখের হাসি দেখি এমনেই ক্লান্তি হারিয়ে যায়। আমি ভালো আছি। আমরা ভালো আছি। বেতন অল্প হলেও শান্তির কোন কমতি শুরু থেকেই ছিলো না। এখনো নাই।

ইফতির কথা শেষ হওয়ার পর মিজান সাহেব বললেন “ আমার জন্য দোয়া কইরেন যাতে আমিও কোনদিন এমন করে কাউকে ভালো থাকার গল্পটা বলতে পারি” ...।। মিজান সাহেব ইমোশনাল হয়ে গেলেন।
ইফতি হেসে রফিক স্যারের কথা মনে করলেন।

অনেকদিন হলো স্যারের কোন খোঁজ নেওয়া হয় না। আজই একটা ফোন করবে ইফতি। অফিস ছুটি এখন বাসায় যাওয়ার পালা। বিয়ের পর থেকে সে ও সিগারেটটা ছেড়েই দিলো। সে ও এখন তনুর জন্য ফেরার সময় কিছু না কিছু নিয়ে যায়। আজ সে নিবে “জিলাপী” ...... সেটা দেখে নিশ্চয়ইই তনু দৌড়ে এসে বলবে “ তুমি কেমনে জানো আমার আজকে জিলাপী খেতে ইচ্ছা করছে ?”
সংগৃহীত ...

Tuesday, January 21, 2020

বৃদ্ধাকে হজে যাওয়ার খরচা দিলেন তুরস্ক সরকার

বৃদ্ধাকে হজে যাওয়ার খরচা দিলেন তুরস্ক সরকার


ছবির এই বৃদ্ধ লোকটি ঘানার এক ছোট্ট গ্রামের
বাসিন্দা।
সেখানে তুরস্কের এক নিউজ চ্যানেল তাদের
ড্রোন দিয়ে ভিডিও করছিলো, দুর্ঘটনাবসত ড্রোনটি এই
বৃদ্ধ লোকের বাড়ীর সামনে গিয়ে পড়ে।

সাংবাদিক তড়িঘড়ি করে তাদের ড্রোন ফেরত আনতে গিয়ে দেখে,
ড্রোনটি এই বৃদ্ধ লোকের হাতে (ছবির বাম পাশে)।

সাংবাদিককে ড্রোনটি দেখিয়ে বৃদ্ধ তার এক আবেগঘন
ইচ্ছের কথা জানায়। সে জিজ্ঞেস করে,
"আচ্ছা, তোমাদের এই ড্রোনটি কি আরো বড় হতে পারে
না, যাতে আমি এটাতে চড়ে হজে যেতে পারি!"
.
দরিদ্র বৃদ্ধের এই হৃদয়ছোঁয়া আকুতি নিয়ে সাংবাদিক
ছবিসহ টুইটারে পোস্ট করলে মুহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে
যায়।

সেটা তুরস্কের সরকারের নজরে আসলে তারা এই
বৃদ্ধকে সরকারি খরচে এই বছর হজে পাঠানোর ব্যবস্থা
করে। কয়েক বচর আগের ঘটনাটি. তবে এটি সত্য। ও
শিক্ষনীয়.
.
এভাবেই আল্লাহ্ তার একনিষ্ঠ বান্দাদেরকে তার ঘরের
মেহমান করে নেন। যা হয়তো তার বান্দারা কখনো
চিন্তাও করেনি সেভাবে আল্লাহ্ তার বান্দাদের মনের
ইচ্ছেগুলো পূরণ করেন।

তাই আল্লাহর কাছে কিছু চাইবার
সময় একনিষ্ঠ এবং তাকওয়া অবলম্বন করাটাই মূল কাজ।
আল্লাহ্ সেই ইচ্ছেকে কীভাবে পূরণ করবেন সেটা হয়তো
আমরা চিন্তাও করতে পারবো না।
.
আল্লাহ্ আমাদের ইচ্ছেগুলোও এভাবে পূরণ করুন। আমীন।

Thursday, January 16, 2020

অমূল্য ১০ টাকা

অমূল্য ১০ টাকা

আজকে জ্যাম এ বসে থাকতে থাকতে নাহয়ান (আমার একমাত্র ১১ মাসের ছেলে) বিরক্ত হয়েগেছিল। পরে আমি না পেরে জানালা অর্ধেক খুলে দেই। সেও খুব খুশি একটু করে মাথা আগায় আর মজা করে। নাহয়ান অপরিচিত হলেও প্রায় সবার দিকেই তাকিয়ে এমন হাসি দেই যে অন্যপক্ষ ওর সাথে না হেসে কথা বলে পারবেনা (মাশাআল্লাহ) তো সে পাশের রিকশাওয়ালা মামার সাথে হাসাহাসি, খেলা শুরু করলো। মামাও যখন বুজছে আমি মাইন্ড করছিনা তখন স্বত্বস্ফুরত ভাবে খুব আদর করে কথা বলছিল এবং খেলছিল।  আঙ্গুল দিয়ে পয়েন্ট করে, হাই ফাইভ, হ্যান্ড সেক করে। অনেকক্ষন যাবৎ তাদের ভাব আদান প্রদান চলে। সিগন্যাল যখন ছাড়বে মামা তার হাতে নতুন ১০ টাকার একটা নোট দেই & বলে মজা খাবে এইটা দিয়ে। আমরা সবাই অপ্রস্তুত হয়েগেছি কিন্তু তার চোখ মুখের আনন্দ দেখে আর না করতে পারিনি। শুধু দোয়া চেয়েছি তার কাছে আর মন থেকে দোয়া করি তার পরিবার যেন এক বেলাও অণাহারে না থাকে কোন দিন। অনেক বিত্তবান এর মনও এত বড় দেখা যায়না প্রায় সময় কিন্তু উনি অল্প সময়ে যে ভালবাসা দেখিয়েছেন তা যথার্থতই প্রসঙ্গশনীয়। সেই টাকা টা যত্ন করে তুলে রাখলাম।

Friday, January 10, 2020

ব্যাঙ্গ ও ইঁদুরের বন্ধুত্বের ছবি ভাইরাল

ব্যাঙ্গ ও ইঁদুরের বন্ধুত্বের ছবি ভাইরাল


ঘটনাস্থল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটা সবুজ ব্যাঙ্গ।
ক্ষুধার্ত এসব ব্যাঙ্গের প্রিয় খাবার হল- গেছো ইঁদুর। মজার ব্যাপার হল- ক্ষুধার্ত ব্যাঙ্গটি তার চোয়াল খুলে ইঁদুরটিকে খেতে ধরে। ইঁদুর ভয়ে চোখ বন্ধ করে। যদি লাফ দিয়ে পালিয়েও যেতে চাইত, ব্যাঙ্গের লম্বা ইলাস্টিক জিহ্বা দিয়ে ধরেও ফেলত।
ঘটনা সবসময় লিনিয়ার হয় না। ব্যাঙ্গটি কী যেন ভেবে চোয়াল বন্ধ করে। ইঁদুরও একসময় বুঝে ফেলে,তার ভয়ের কিছু নেই। এরপর ইঁদুরটি আলতো করে ব্যাঙ্গের মাথায় হাত রাখে। চুমুও খায়।
-অসাধারণ মুহুর্তটি (BioDiversity) ধারণ করেছেন ফটোগ্রাফার Tanto Yensen

Thursday, December 26, 2019

নাম আমার সুলতান গাছি, সত্তর বছর হইলো বয়স

নাম আমার সুলতান গাছি, সত্তর বছর হইলো বয়স

আমার নাম সুলতান, সত্তর বছর হইলো বয়স।
সারা এলাকার মানুষ এক নামে চিনে সুলতান গাছি হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধ শুধু হবার ১ বছর আগে থেইখা খেজুর গাছ বান্দি, এখন প্রায় ৫০ বছর পার হয়, কখনো একবারো বাদ যায়নাই, একলগে ২০০-৩০০ গাছ আমি একা বানছি, আমার ছেলে মেয়ে এই খেজুরের রসের টাকায় পড়াশুনা করাইছি।

দুইটা ছেলে বিদেশ পাঠাইছি, পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিয়া বাড়ি করছি এক তলার কাজ করছি, আমার একটা ছেলে খেজুরের রস ঢাকায় বেইচা ফেরার পথে এক্সিডেন্টে মারা গেছে, তাও এই বাধা বন্ধ করিনাই, সবাই আমারে ভালোবাসে খুব।আদর করে সবাই।

৪৯ বছর ধরে গাছ বান্ধি, আমার বাবায় ও বান্ধতো, কিন্তু এইবারের পর আর গাছ বান্ধমুনা, আর জানে কুলায় না, এইবারই শেষ, খুব ইচ্ছা ওমরা হজ্জ এ যামু, তারপর তো আর এসব মানাইবোনা, আর শরীলেও তো আর জোড় পাইনা। খুব ইচ্ছা আছিলো ইত্যাদির মধ্যে আমারে দেখাইবো, এই গাজীপুরে আমার চেয়ে পুরান গাছি একটাও নাই, পুরা কালীগঞ্জ এর গাছ আমি কাইটা বেড়াইছি, রস দিছি মানুষরে, মানুষ দোয়া করছে। এইবার শেষ, আর গাছ বান্ধমুনা, আমার শেষ ইচ্ছা আছিলো যদি ইত্যাদি আইসা আমার এই গাছগুলার ছবি তুইলা নিয়া যাইতো।

খুব সরল মনে কথা গুলো বলেছিলেন গাজীপুর কালীগঞ্জের এই গাছি সুলতান চাচা। এই বয়সেও গাছে চরে খেজুরের রস সংগ্রহ করে যেন একপ্রকার বাঁচিয়ে রাখছে গ্রাম বাংলার পুরোনো ঐতিহ্যে কে।

সুলতান চাচারা সব সময় ভালো থাকুক ।

কালীগঞ্জ ,গাজীপুর।
ক্রেডিট- কাউসার আহমেদ রোহান।

Tuesday, December 24, 2019

আফসোস অনেক বেশি হয় আমার ছাত্রের জন্য

আফসোস অনেক বেশি হয় আমার ছাত্রের জন্য


আমার ছাত্রটা রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে পড়ে। সন্ধ্যায় পড়াইতে যাই। তার আগে দুইজন টিচার তাকে পড়িয়ে আসে। অনেক হাই ক্লাস ফ্যামিলি।বাসায় ঢুকার আগে কলিংবেল দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়৷ বাহিরে এখন কনকনে শীত। চাবি দেয় দ্বিতীয় তলা হতে। বাসায় ঢুকি।ছাত্র বলে একটু রেস্ট নি। রেস্ট নেওয়ার পর পড়া শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা বকে যাই। তার ফাঁকে নাস্তা।গণিত আর সাধারণ গণিত পড়াই। পড়িয়ে আবার পড়া দিয়ে আসি। রাত জেগে তিনজন স্যারের কাজ করে। অনেক সময় নাকি দুটা বেজে যায়৷ সকালে উঠে আবার স্কুলে যায়। রিক্সা একটা ফিক্সড করা থাকে। স্কুল হতে ফিরে প্রায় তিনটায়। এসে একটু রেস্ট নিয়ে দুপুরের খাবার খায়। তারপর ঘুমায়৷ঘুম হতে উঠে দেখে স্যার বসে আছে। হাতমুখ ধুয়ে আবার পড়তে বসে। এই আমার ছাত্রের জীবন। মাঝেমধ্যে বাহিরে যাওয়ার সুযোগ হয়ে উঠে পরিবারের সাথে। শপিং করে আসে। সাথে বাহিরের সেরা রেস্টুরেন্টে খেয়ে। দুইদিন আগে ব্লুটুথ ইয়ারফোন কিনেছে। ইয়ারফোনটা পেয়ে সে যে কি খুশি!
আমাকে ফাংশন দেখায়। স্যার,এটা দিয়ে এটা করে!
আফসোস!
আফসোস অনেক বেশী হয় আমার ছাত্রের জন্য....সোনালী কৈশোর জীবন সে কিভাবে কাটিয়ে দিচ্ছে। সবকিছু নিয়মতান্ত্রিক। কোনো স্বাধীনতা নেই। একটু খোলা হাওয়ার গায়ে লাগানোর সুযোগ নেই। চার শিকলে বন্দী বাঘের মত জীবন। সবকিছু আছে.... নেই কৈশোরের আমোদপ্রমোদ !!
আমি যখন এই বয়সে ছিলাম....স্কুল হতে ফিরার সময় এক আঙ্কেল এর বাড়ির উঠানে চলে যেতাম। আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়রা যে জায়গায় খেলতো। ব্যাগ মাটিতে রেখে চলতো ক্রিকেট খেলা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতো। বাড়ি যাওয়ার কোনো চিন্তা ছিল নাহ। মা চলে আসতো খুঁজতে খুঁজতে প্রতিদিন লাঠি হাতে। কানে ধরতাম আর আসবো নাহ। মার খাইতাম। তবুও ঠিক হতাম নাহ। পরেরদিন ঠিকই আমি উঠানে উপস্থিত খেলার জন্য !
পড়তে বসে মার্বেল গণনা করতাম৷ কয়টা লাভ হয়ছে কিংবা ক্ষতি হয়ছে। লাঠিম খেলার সময় আসলে....দিনে দশ বারোটা লাঠিম বানাইতাম। বাজারে সিগারেট প্যাকেট খুঁজে তাস বানাইতাম। ঐ তাস দিয়ে খেলতাম পাড়ার পোলাপানের সাথে। পলিথনে পাথর মুড়িয়ে ঘুরাইতাম অনেকক্ষণ... তারপর ছেড়ে দিতাম। অনেকদূর চলে যেতো। আবার নিয়ে আসতাম।
আহ!
সোনালী কৈশোর।
কত আনন্দে কেটেছে। ছিল না কোনো ডিপ্রেশন। কোনো আক্ষেপ। কোনো কষ্ট। পড়ার এত চাপ। চার শিকলে বন্দী থাকার কোনো প্রবণতা।
অথচ এখনকার কৈশোর জীবন দেখলে.... খারাপ লাগে।
শুধু খারাপ লাগে....খুবই খারাপ লাগে। বাস্তবিক সব খেলা বাদে তারা জড়িয়ে যাচ্ছে ভার্চুয়াল জগতে। যে জিনিস গুলো সম্বন্ধে পরে জানার কথা ছিল...তারা অনেক আগে সে সব জেনে যাচ্ছে। ছোট বয়সে ঐদিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। জীবনটা -কে বিতৃষ্ণা প্রাণের দিকে ঢেলে দিচ্ছে।
সামনে আরো খারাপ হবে। খালি মাঠে উঠবে বড় বড় দালানকোঠা!
নিঃশ্বাস হবে বিষাক্ত !
বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা হবে ক্ষীণ !!
ইচ্ছে হয় প্রতিটা মা বাবাকে বুঝাই।
ছেলের কৈশোর জীবনকে এভাবে নষ্ট করে দিয়েন না৷ তাকে ছেড়ে দিন। মানুষের সাথে মিশতে দিন। খেলতে দিন৷
সে খুশি হবে।সে প্রাণ খুলে হাসতে শিখে যাবে। তার এই হাসির কারণে... আপনি বৃদ্ধ বয়সে দিব্যি হাসতে পারবেন !!
তিন সত্যি!
কোনো কিছু কাউকে খুশি করার জন্য করলে...
উপরে উনি শুধু তা ফিরে দেন না...
তার চেয়ে অনেক বেশী দিবেন আপনাকে !!
বিশ্বাস রাখুন।
তাকে বাঁচতে দিন। সোনালী কৈশোর উপভোগ করতে দিন। জীবন অনেক ছোট। ধন-দৌলত,শিক্ষা...এসব আজ আছে... কাল নেই !
সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকলে এসব সবই আসবে... যাবে।
কিন্তু এই যে সময় 'কৈশোর জীবন' তা জীবনে একবারই পাওয়া যায়। তা আর ফিরে আসে না.... কোনোভাবে !

-রিয়াজ উদ্দীন পলাশ
ডিপার্টমেন্ট অব ফিজিক্স, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি

Wednesday, December 18, 2019

এ যেনো পশুপাখির অন্যরকম ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি

এ যেনো পশুপাখির অন্যরকম ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি

পশুপাখিরা কেবল নিজের পরিবারের সঙ্গেই খাবার ভাগ করে খায় না, অন্যদের সঙ্গেও খাবার ভাগ করে নেয়। একটি কাঠবিড়ালি কিভাবে পাখিদের সাথে তার খাবার ভাগ করে নিচ্ছে সে ছবি দেখার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল টপিকে পরিণত হয়েছে এটি । সবাই অবাক রিতিমত ।

ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ওই কাঠবিড়ালি পেছনের পায়ে ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। সামনের পা দিয়ে মুখের কাছে ধরে আছে বিস্কুট। আর তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি ছোট ছোট পাখি। তাদের মধ্যে দু’টি পাখি কাঠবিড়ালির বিস্কুটের দিকে তাকিয়ে আছে। একটি পাখি আবার কাঠবিড়ালির ধরে রাখা অবস্থায় বিস্কুটে ভাগ বসিয়েছে।

Friday, December 13, 2019

পিতা টাকা জমিয়ে পুত্র কে নিয়ে এলেন বিমান উঠা নামা দেখতে

পিতা টাকা জমিয়ে পুত্র কে নিয়ে এলেন বিমান উঠা নামা দেখতে


উড়োজাহাজের উড্ডয়ন অবতরন দেখতে সুনামগঞ্জের অজোপাড়াগাঁ থেকে সিলেটে এসেছেন রহমত উল্লাহ। সাথে মা হারা পুত্রকে নিয়ে এসেছেন। পুত্রের নাম মোশারফ। বয়স ছয়।
রোববার আমার কন্যাকে আনতে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর যাই দুপুরে। সেখানে ভিআইপি লাউঞ্জের কাছে দেখা রহমত উল্লাহর সাথে। উড়োজাহাজ উড্ডয়ন অবতরনের সময় এদিক-ওদিক প্রাণপন দৌড়াচ্ছিলেন এই পিতাপুত্র।
আচমকা তাদের দৌড়ানো দেখে কাছে ডাকি। জানতে চাই এমন দৌড়ানোর কারণ। রহমত উল্লাহ জানালেন তার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ভিমখালী ইউনিয়নের কলকতখাঁ গ্রামে। চেহারায় সরলতা জড়িয়ে। পায়ে জুতো নেই। দৌড়াদৌড়ির সময় প্লাস্টিকের স্যান্ডেল ছিঁড়ে গেছে।
একহাজার টাকা জমা করেছিলেন রহমত উল্লাহ। সেই টাকা নিয়ে জামালগঞ্জ থেকে শাহজালালের দরগায় আসেন রহমত উল্লাহ। সেখান থেকে সালুটিকরের উদ্দেশ্যে গাড়িতে চড়েন। তিনি শুনেছিলেন সালুটিকর নাকি ওসমানী বিমানবন্দর।
কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারলেন বিমানবন্দর অন্যত্র। তারপর অবস্থান জেনে ফিরে আসেন ওসমানী বিমানবন্দরে। এসেই জীবনের প্রথম উড়োজাহাজ উড়তে দেখে বেজায় খুশি পিতাপুত্র।
আমার কাছে জানতে চাইলেন বিকেল পর্যন্ত কতটা উড়োজাহাজ ওড়বে এবং নামতে দেখতে পারবেন। আমি অপলক তাকিয়ে দেখছিলাম এই পিতাপুত্রকে। মনে মনে ভাবলাম আমাদের গ্রামবাংলায় এখনো এমন রহমত উল্লাহরা আছেন যারা উড়োজাহাজ চড়া দূরের কথা ওড়তেও দেখেননি।
রহমত উল্লাহ বাংলাদেশের সেইসব মানুষের দলের। আমি রহমত উল্লার দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশের চেহারা দেখছিলাম। রহমত উল্লা থাকেন ভাইয়ের আশ্রয়ে। স্ত্রীর মৃ’ত্যুর পর পুত্র মোশারফের মা-ও তিনি বাবাও তিনি। দরিদ্রতাও রহমত উল্লার উড়োজাহাজ ওড়া বা নামা দেখার আগ্রহ দমিয়ে রাখতে পারেনি।
-সংগৃহীত

Friday, December 6, 2019

তারা বড়লোক হতে চায় না শুধু দু'বেলা খেতে চাই

তারা বড়লোক হতে চায় না শুধু দু'বেলা খেতে চাই


বয়স আশি'র উপরে। বাজারের এক কোণে বসে থাকেন সামান্য কিছু পণ্য সামগ্রী নিয়ে। আশা, যদি কেউ কিনে নেন তবে এক বেলার খাবার জুটে যাবে। সন্তানরা দেখে না তাকে। এমন অনেক বৃদ্ধ মানুষ আছেন যারা ভিক্ষা করে খাওয়ার চেয়ে পণ্য বিক্রি করে জীবন যাপন করতে চান।

আধুনিক যুগের সুপারশপে দামদর করে পণ্য কেনার কোনো সুযোগ নেই। অনেকে দামদরের ঝামেলা এড়াতে এসব সুপারশপে গিয়ে থাকেন। তবে যারা দামদর করে বাজার করার মজা নিতে চান, তাদেরকে তো কাঁচাবাজারে যেতেই হবে। এই কাঁচাবাজারেই পেয়ে যাবেন এমন কিছু মানুষ, যারা ভিক্ষা চায় না। তারা চায় কেউ তাদের পণ্য কিনুক। এসব বিক্রি করে তারা বড়লোক হয়ে যাবে না, বড় ব্যবসায়ীও হয়ে যাবে না, মাত্র একবেলার খাবার হয়তো জুটবে। শহরের প্রায় সকল বাজারে এমন মানুষের দেখা মেলে ।

এদের কেউ এসেছেন শহরতলীর কোনো গ্রাম থেকে। মাথা গোঁজার একখণ্ড জমিতে হয়তো একটি লেবু গাছ আছে। কারও বাড়িতে হয়তো দুটি কলাগাছ আছে। সেটি থেকে ফল তুলে এনে বাজারে বিক্রি করেন। কেউ আবার নগরীর খাদ্য গুদামে রাতের বেলায় পণ্য আনলোড করার সময় উপস্থিত হন। আনলোডের সময় কিছু পণ্য ছিটকে যায় এদিক-ওদিক। সেগুলো জড়ো করতে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বসে থাকেন এই গরীব মানুষগুলো। সকালে বাজারে বিক্রি করতে পারলে জুটবে কিছু পয়সা।

বাজারে ঢুকলে পণ্যের সম্ভার সাজিয়ে রাখা দোকানিদের দিকেই সবার চোখ যায়। ভিড়ের মাঝে এক কোণে সামান্য কিছু পণ্য নিয়ে বসে থাকা মানুষগুলোর দিকে তাকানোর সময় কই? এই প্রতিবেদন পড়ার পর বাজারে গিয়ে একটু নজর করলেই দেখবেন, এমন অসহায় বৃদ্ধ মানুষগুলো বসে আছে ক্রেতার অপেক্ষায়। অন্তত একদিন কেউ হয়ে যেতে পারেন এই বৃদ্ধদের সেই কাঙ্খিত ক্রেতা। প্রয়োজন না থাকলেও স্রেফ অপ্রয়োজনে দামাদামি ছাড়াই তাদের থেকে কিনে নিতে পারেন পছন্দসই কোনো পণ্য।

Friday, September 27, 2019

এত পয়সা দিয়ে কি করবো বন্ধু?

এত পয়সা দিয়ে কি করবো বন্ধু?


দিল্লির জামে মসজিদের এক নাম্বার গেইটের ঠিক সামনের দিকে একটি হোটেল আছে নাম "রেহমতুল্লাহ হোটেল"।
তিরিশ রুপিতে হোটেলটির বিখ্যাত গরুর পায়া এবং নান রুটি পাওয়া যায়।
এবং সাথে পাওয়া যায় অসাধারণ একটি দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য! হোটেলের সামনে দিনের তিন বেলাই মুসাফির অথবা অসহায় মানুষের ভিড় লেগে থাকে।কারন হোটেল মালিক রেহমাত ভাই প্রতিদিন এদের কে বিনামূল্যে খাওয়ার দিয়ে থাকেন।যা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে।
উনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম,
-যা লাভ করছেন তার সবই তো বিনামূল্যে বিলিয়ে দিচ্ছেন! দিন শেষে নিজের জন্য কিছু থাকে?
জবাবে রেহমাত ভাই উত্তর দিলেন,
- 'ইতনা পয়সা ক্যায়া করু ইয়ার! কাফন'কাতো কোহি পকেট নেহি রেহতা।'
"এত পয়সা দিয়ে কি করবো বন্ধু! কাফনের কাপড়ে তো কোন পকেট থাকে না।"

Friday, September 6, 2019

আমি ৯০ এর দশক বলছি

আমি ৯০ এর দশক বলছি


তখন ১ টাকায় ৪টা চকলেট পাওয়া যেতো। হসপিটালে গেলে ফ্রি ফ্রি চুলকানির ওষুধ পাওয়া যেত। ব্রিজের উপর থেকে ঝাপ দিলে ঘন্টা দুয়েক পর নাকের নিচে কাদার গোফ পাওয়া যেত। কিন্তু হাজার খুঁজলেও এখনকার মত পকেট ভর্তি ইয়াবা আর ফোন ভর্তি পর্ণ পাওয়া যেত না। ও হ্যা, আমরা মাছ ধরতাম। ঠ্যালা জাল চেনো? তিনকোণা নীল রঙা জাল। তখন পুটি মাছ পেয়ে যেন ইলিশের আনন্দ নিতাম।
সন্ধ্যে হওয়ার আগেই বাসাই ফিরতে হত রোজ হারিকেন টা মুছে তৈল দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার দ্বায়িত্ব টা আমার উপর ছিল,একসাথে চাটায়ে বসে পড়তে বসতাম ভাই বোন মিলে, , আর সন্ধ্যায় যখন আশেপাশে কেউ থাকতো না, তখন বইয়ের ভেতরের ময়ূর বের করে মাপতাম। এরপর তাকে চকের গুঁড়ো খেতে দিয়ে আবার যথাস্থানে রেখে দিতাম। আমরা ভাবতাম ময়ূর বড় হয়। যার কাছে যত ময়ূর তাকে ততো সমীহ করে চলতাম যদি সে দয়া করে একটা ময়ূরের বাচ্চক দেয়! এভাবেই আমাদের গল্পে ময়ূর আর চকের গুঁড়ো মিশে আছে যার গন্ধ আমরা এখনো পাই প্রতিটা বইয়ের পাতায়। তোমরা যখন চিনি দেখলে কোকেন বলে মনে কর, আমরা ৯০ এর দশকের ছেলেরা প্রথমে তাকে চকের গুঁড়ো ভাবি। এটাই আমাদের সরলতা। রাত পেরিয়ে সকাল হলে দল বেধে যাইতাম মক্তবে কোরআন শিক্ষা টা যতাযত ভাবে নিতে ,,, দিন হলে বা দিন পেরিয়ে সন্ধ্যা হলে আমরা পলিথিন জোগাড় করতাম। আগুন জ্বালাবার জন্য। মা বলতো উলের সোয়েটারে নাকি আগুন লাগে তাই সোয়েটার খুলে আমরা আগুনের কাছে যেতাম। আগুনের ভেতর থেকে হাত পা ঘুরিয়ে আনা আর সুচ দিয়ে আঙুল এর চামড়া ফুটো করে গেথে রাখা ছিল তৎকালীন সময়ে স্মার্টনেসের সর্বোচ্চ নিদর্শন। আগুন জ্বালালে তাতে নষ্ট কলম পোড়ানো ছিল ট্রেন্ড। এই জেনারেশন কখনওই জানবে না পলিথিন আর কলম পোড়ার গন্ধ, কিভাবে চামড়ায় সুচ আটকে রাখা যায় তা তারা শিখে নিতে পারবে কিন্তু রোমাঞ্চকর কোন অনুভূতি পাবেনা। কারণ তারা এখন রোমাঞ্চ পায় ইরোটিক ক্লিপ আর সবজী লাল পানি খাওয়াতেই।
আমরা দেখেছি কিভাবে কেরোসিন আনার জন্য কাচের স্প্রাইটের বোতলের মাথায় দড়ি বাধা হতো। আস্তে আস্তে কিভাবে দড়ি কালো হয়ে যেত আর বোতলের গায়ে ময়লার আবরণ পড়তো।ডাংগুলি খেলা তো এখনকার জেনারেশন চিনে কিনা সন্দেহ আছে,, কত যে রোমাঞ্চকর ছিল পরিবেশ টা জায়গাই জায়গাই, মারবেল খেলা,সিগারেটের পেকেট এর নকল টাকা দিয়ে কত রকম যে খেলা ছিল,,, ২০০০ সাল কখনওই জানবে না ষ্টোভ নেভানোর পর কেরোসিন পুড়ে কেমন সুঘ্রাণ বের হয়, সন্ধ্যাবেলায় প্রতিটা বাড়ি থেকে কিভাবে এক এক্কে এক, দুই এক্কে দুই পড়ার আওয়াজ ব্যাঙ এর ঘেঙর ঘেঙরকে হার মানায়, এরা কখনওই ধারাপাত বই চিনবে না। এরা জানে ইউটিউবের টিউটোরিয়াল, সারাদিনের স্কুলে পরে থাকা মোজার গন্ধ আর বিদেশী রাইটারের বই।
.
সময় পাল্টেছে, আমি যুগের দোষ দেবোনা, সময়ের দোষ দেব না, এই জেনারেশনের দোষ দেব না। দোষ দেব আমাদের, দোষ দেব এই ৯০ এর দশককে। কেন তারা এত সুন্দর ছিল যে পরবর্তী দিনগুলোকে তাদের ধারে কাছেও আসতে দিল না? সেই দিনগুলো ফেসবুক ইউটিউবে বন্দী ছিল না তাই আমাদের শৈশব কেটেছে মাঠেঘাটে, হাওড় বাওড়ে, আগুনে পানিতে, জলাজঙ্গলে। তোমরা তোমাদের গেম অফ থ্রোনস, ইউটিউব আর ফেসবুক দিয়ে আমাদের ম্যাকগাইভার, আলিফ লায়লা আর নতুন কুঁড়িকে চাপা দিতে পারবা কখনো? কি মনে হয়? পারবা?
লিখেছেন - নব্বই এর দশকের কেউ একজন । অনলাইন থেকে সংগৃহীত ।

Friday, August 30, 2019

যে সকল কম্পানি যুগের সাথে বদলাতে পারে না, যুগ তাদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়

যে সকল কম্পানি যুগের সাথে বদলাতে পারে না, যুগ তাদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়

Kodak কোম্পানিকে মনে আছে? ১৯৯৮ সালে কোড্যাক কোম্পানিতে প্রায় ১লক্ষ ৭০ হাজার কর্মচারী কাজ করতেন।
এবং বিশ্বে ছবি তোলার প্রায় ৮৫% ই কোড্যাক ক্যামেরায় তোলা হত। গত কয়েক বছরে মোবাইল ক্যামেরার বাড়বাড়ন্ত হওয়ায় এমন অবস্থা হয় যে Kodak ক্যামেরার কোম্পানীটাই উঠে যায়। এমনকি Kodak সম্পুর্ন দেউলিয়া হয়ে পড়ে এবং এদের সমস্ত কর্মচারীকে বাধ্যতামূলক ছাঁটাই করা হয়।
ওই একই সময়ে আরো কতগুলি বিখ্যাত কোম্পানি তাদের ঝাঁপ পাকাপাকি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। যেমন-
HMT (ঘড়ি)
BAJAJ (স্কুটার)
DYANORA (TV)
MURPHY (radio)
NOKIA (Mobile)
RAJDOOT (bike)
AMBASSADOR (গাড়ি)
এই উপরের কোম্পানিগুলোর মধ্যে কারুরই কোয়ালিটি খারাপ ছিল না। তবুও এই কোম্পানি গুলো উঠে গেল কেন? কারণ এরা সময়ের সাথে নিজেকে বদলাতে পারেনি।
এখনকার সময়ে দাঁড়িয়ে আপনি হয়তো ভাবতেও পারছেন না যে সামনের 10 বছরে দুনিয়া কতটা পাল্টে যেতে পারে! এবং আজকের 70%-90% চাকরিই সামনের 10 বছরে সম্পুর্নভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে। আমরা ধীরে ধীরে ঢুকে পড়েছি "চতুর্থ শিল্প বিপ্লব"-এর যুগে।
আজকের বিখ্যাত কোম্পানিগুলোর দিকে তাকান-
UBER কেবলমাত্র একটি software-এর নাম। না, এদের নিজস্ব কোন গাড়ি নেই। তবু আজ বিশ্বের বৃহত্তম ট্যাক্সি-ভাড়ার কোম্পানি হল UBER.
Airbnb হল আজকে দুনিয়ার সবথেকে বড় হোটেল কোম্পানি। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, পৃথিবীর একটি হোটেলও তাদের মালিকানায় নেই।
একইভাবে Paytm, ওলা ক্যাব, Oyo rooms ইত্যাদি অসংখ্য কোম্পানির উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।
আজকে আমেরিকায় নতুন উকিলদের জন্য কোন কাজ নেই, কারণ IBM Watson নামে একটি আইনি software যে কোন নতুন উকিলের থেকে অনেক ভাল ওকালতি করতে পারে। এইভাবে পরের 10 বছরে প্রায় 90% আমেরিকানদের আর কোন চাকরি থাকবে না। বেঁচে থাকবে খালি বাকি 10%। এই 10% হবে বিশেষ বিশেষজ্ঞ।
নতুন ডাক্তারদেরও চাকরি যেতে বসেছে। Watson নামের software মানুষের থেকেও 4 গুন নিখুঁত ভাবে ক্যানসার এবং অন্যান্য রোগ শনাক্ত করতে পারে। 2030 সালের মধ্যে কম্পিউটারের বুদ্ধি মানুষের বুদ্ধিকে ছাপিয়ে যাবে।
2019 সালের মধ্যেই রাস্তায় নামতে চলেছে চালকহীন গাড়ি। 2020 সালের মধ্যেই এই একটা আবিষ্কার বদলে দিতে পারে গোটা দুনিয়ার চালচিত্র। এর ফলে সামনের 10 বছরে আজকের 90% গাড়িই আর রাস্তায় দেখা যাবে না। বেঁচে থাকা গাড়িগুলো হয় ইলেক্ট্রিকে চলবে অথবা হাইব্রিড গাড়ি হবে। রাস্তাগুলো ক্রমশঃ ফাঁকা হতে থাকবে। পেট্রোলের ব্যবহার কমবে এবং পেট্রোল উৎপাদনকারী আরব দেশগুলি ক্রমশঃ দেউলিয়া হয়ে আসবে।
তখন গাড়ি লাগলে, উবারের মত কোন software-এর কাছেই গাড়ি চাইতে হবে। আর গাড়ি চাইবার কিছুক্ষনের মধ্যেই সম্পূর্ণ চালক-বিহীন একটা গাড়ি আপনার দরজার সামনে এসে দাঁড়াবে। আপনি যদি অনেকের সাথে ওই একই গাড়িতে যাত্রা করেন, তাহলে মাথাপিছু গাড়িভাড়া বাইকের থেকেও কম হবে।
গাড়িগুলো চালকবিহীন হবার ফলে 99% দুর্ঘটনা কমে যাবে। এবং সেই কারণেই গাড়ি-বীমা করানো বন্ধ হবে এবং গাড়ি-বিমার কোম্পানি গুলো সব উঠে যাবে।
গাড়ি চালানোর মত কাজগুলো আর পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে না। 90% গাড়িই যখন রাস্তা থেকে উধাও হয়ে যাবে, তখন ট্রাফিক পুলিশ এবং পার্কিং-এর কর্মী-দেরও কোন প্রয়োজন থাকবে না।
ভেবে দেখুন, আজ থেকে 5-10 বছর আগেও রাস্তার মোড়ে মোড়ে STD বুথ ছিল। দেশে মোবাইল বিপ্লব আসার পর, এই সবকটা STD বুথই কিন্তু পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য হল। যেগুলো টিকে রইল, তারা মোবাইল রিচার্জের দোকান হয়ে গেল। এরপর মোবাইল রিচার্জেও অনলাইন বিপ্লব এল। ঘরে বসেই অনলাইনে লোকে মোবাইল রিচার্জ করা শুরু করল। এই রিচার্জের দোকান গুলোকে তখন আবার বদল আনতে হল। এরা এখন কেবল মোবাইল ফোন কেনা-বেচা এবং সারাইয়ের দোকান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সেটাও বদলাবে খুব শিগগিরই। Amazon, Flipkart থেকে সরাসরি মোবাইল ফোন বিক্রি বাড়ছে।
টাকার সংজ্ঞাও পাল্টাচ্ছে। একসময়ের নগদ টাকা আজকের যুগে "প্লাস্টিক টাকায়" পরিণত হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ডের যুগ ছিল কদিন আগেও। এখন সেটাও বদলে গিয়ে হয়ে যাচ্ছে মোবাইল ওয়ালেট-এর যুগ। Paytm-এর রমরমা বাজার, মোবাইলের এক টিপে টাকা এপার-ওপার।
যারা যুগের সাথে বদলাতে পারে না, যুগ তাদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়। তাই ক্রমাগত যুগের সাথে বদলাতে থাকুন।
সাফল্যকে সাথে রাখুন, সময়ের সাথে থাকুন।

Monday, August 19, 2019

ওই বন্ধু অনেক বড় গার্মেন্টস দিছিলো , আগুনে পুইরা গেছে

ওই বন্ধু অনেক বড় গার্মেন্টস দিছিলো , আগুনে পুইরা গেছে


৩২ বছর আগে আমি আর আমার বন্ধু মিল্লা একটা কাপড়ের ব্যবসা দেই । ব্যাবসার টাকা আব্বার কাছ থেইকা নিছিলাম । ৭০ ভাগ টাকা আমি দেই আমার বাকি ৩০ ভাগ আমার বন্ধু দেয় । আমি আমার পুরাটাই এই ব্যাবসায় দিয়া দিছিলাম । আব্বা বিশ্বাস কইরা টাকাটা দিছিলো আমারে ।

ব্যাবসা ভালই যাইতেছিলো , ২ বছর হয়া গেছিলো প্রায় । একদিন নদীর ওই পারে ৩ জন আমারে চাকু ধইরা কয়াকটা কাগজে সই করতে কয় । আমি বুইজা গেসিলাম এগুলা আমার ব্যাবসার কাগজ । কিন্তু কিছু করার ছিলো না । আমি সই কইরা দেই আর পুরা ব্যাবসা ওই বন্ধুর হইয়া যায় । তার দুই মাস পর আব্বা খুব অসুস্থ হইয়া পরে । আমি আমার যা আছে সব বেইচা চিকিৎসা করাই । কিন্তু একটা সময় বেচার মতো আর কিছু ছিলো না আমার হাতে । আমি খুব লজ্জা নিয়া ওই বন্ধুর কাছে গিয়া নিজের ব্যাবসার ৭০ ভাগের ২০ ভাগ চাই তার পায়ে পইরা , আব্বার কথা বইলা । কিন্তু সে আমারে দেয় নাই । আমার যাওয়াটা মনে হয় বোকামি ছিলো, কিন্তু আমার করার কিছু ছিলো না। যে বন্ধু আমার বাসায় আসতো ,যে বন্ধুরে আব্বা পছন্দ করতো সেই বন্ধু সেদিন আব্বার জন্য টাকা দেয় নাই। দুনিয়া কতটা আগুনের মত ভয়ানক তা সেদিন বুঝছি । আব্বা মারা যায় ।
তারপর আমি কষ্ট কইরা সেলাই মেশিন কিনা রাস্তায় বসি । এর পর থেইকা আমি ঠিক করছি সারাজীবন এমন সহজ ভাবেই জীবন কাটামু আমার । বেশি দরকার নাই ,সারাদিন রাস্তায় বইসা যা আসে তাই দিয়া হয়া যায় আমার ।
ওই বন্ধু অনেক বড় গার্মেন্টস দিছিলো , আগুনে পুইরা গেছে । এখন সে জেলে ।
-ওয়াসিফ কবির

Tuesday, July 30, 2019

একসময় তারা আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমি পারিনি ছাড়তে

একসময় তারা আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমি পারিনি ছাড়তে


সেদিনটির কথা আমি কখনোই ভুলবো না, যেদিন কোর্টে বাবা মায়ের সেপারেশনের সময় মা'কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "আপনি কাকে চান, ছেলেকে না মেয়েকে?? "
মা তখন ছেলেকে চেয়েছিল, আমাকে চায়নি। বাবাও তখন আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কারণ তিনি আবার বিয়ে করে নতুন সংসার করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, অযথা আমাকে নিয়ে নতুন সংসারে বোঝা বাড়াতে চাননি।

কাঠের বেঞ্চিতে বসে যখন অঝোরে কাঁদছিলাম তখন বুকে আগলে ধরেছিলেন এক লেডি কনস্টেবল। আশ্রয় দিয়েছিলেন তার বাড়িতে। কিন্তু তার মাতাল স্বামীর লোলুপ দৃষ্টি পড়েছিল আমার উপর। শিশু বয়সে অত কিছু না বুঝলে ও কেমন যেন খারাপ লাগতো। রাতে যখন আন্টি বাসায় ফিরতেন, আমি তাকে সব বলে দিতাম। মহিলা দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। অতঃপর আমার নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি আমাকে একটা এতিমখানায় রেখে আসলেন। যাবার সময় আমাকে দু হাতে জড়িয়ে ধরে যেমন করে কাঁদলেন, আমার মাও আমাকে রেখে যাওয়ার সময় ওভাবে কাঁদেনি।

দিন যায়-মাস যায়, এতিমখানাতেই জীবন কাটতে থাকে আমার। খুব অসহায় লাগতো নিজেকে। বাবা মা বেঁচে থাকতে ও যে শিশুকে এতিমখানায় থাকতে হয় তার থেকে অসহায় বুঝি আর কেউ নেই!!

বছর দু'য়েক পরের কথা। এক নিঃসন্তান ডাক্তার দম্পতি আমাকে দত্তক নেন। জীবনটাই পাল্টে গেল আমার। হেসে খেলে রাজকীয় ভাবে বড় হতে লাগলাম আমি। আমার নতুন বাবা মা আমাকে তাঁদের মতই ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার একগুঁয়ে ইচ্ছে ছিল একটাই, আমি ল'ইয়ার হবো। আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আজ আমি একজন ডিভোর্স ল' ইয়ার। যারাই আমার কাছে তালাকের জন্য আসে, আগেই আমি বাচ্চার কাস্টোডির জন্য তাদের রাজি করাই। কারণ বাবা মা ছাড়া একটা শিশু যে কতটা অসহায়, তা আমি ছাড়া কেউ জানে না!!

চেম্বারে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলাম। হঠাৎ একটা নিউজে চোখ আটকে গেল। এক বৃদ্ধা মহিলাকে তার ছেলে আর বউ মিলে বস্তায় ভরে রেলস্টেশনে ফেলে রেখে গেছে। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। নিচে বৃদ্ধা মহিলার ছবি দেয়া। মুখটা খুব চেনা চেনা লাগছিল। কাছে এনে ভালো করে ছবিটা দেখলাম। বুকের মাঝে ধক করে উঠলো। এ তো সেই মহিলা যে আমাকে অনেক বছর আগে আদালতে ছেড়ে গিয়েছিল, আমার মা। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে ছুটে গেলাম হাসপাতালে।

সেই মুখটা কিন্তু চেনার উপায় নেই। চামড়াটা কুঁচকে আছে, শরীরটা রোগে শোকে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে খুব মায়া লাগছে, ভেতরটা ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে। আচ্ছা, সেদিন কি তার একটু ও কষ্ট লাগেনি, যেদিন তার ১০ বছরের শিশু কন্যাটি মা-মা করে পিছু পিছু কাঁদতে কাঁদতে দৌড়াচ্ছিল?? হয়তো লাগেনি। নয়তো এভাবে ফেলে যেতে পারতো না।

একবার ভেবেছিলাম চলে যাবো। হঠাৎ দেখি তিনি ঘুম ভেঙে চোখ পিটপিট করে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। বুঝলাম চিনতে পারেন নি, চেনার কথা ও নয়!! আমি আমার পরিচয় দিলাম। কয়েক সেকেন্ড নিষ্পলক তাকিয়ে থেকে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। নিজের কৃতকর্মের জন্য বারবার ক্ষমা চাইতে থাকে। নিজের বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি মাকে।

মাকে পাওয়ার পর বাবার জন্য ও মনটা উতলা হয়ে উঠে। মায়ের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বাবার অফিসে যোগাযোগ করি। জানতে পারি, কয়েক বছর আগেই রিটায়ার্ড করেছেন তিনি। বাসার ঠিকানায় গিয়ে দেখি উনি নেই। উনার দ্বিতীয় পক্ষের ছেলেমেয়েদের জিজ্ঞেস করে জানলাম, রিটায়ার্ড করার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়েন। অযথা একটা রুম দখল করে নোংরা করত, তাই বিরক্ত হয়ে ছেলেমেয়েরা তাকে একটা সরকারি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে, অযথা ঘরে বোঝা বাড়িয়ে কি লাভ!!!

ওদের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে বৃদ্ধাশ্রম গেলাম। চিনতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো, মনে হলো একটা জীবিত লাশ পড়ে আছে বিছানায়। পাশে বসে হাতটা ধরলাম, পরিচয় দিতেই মুখ ফিরিয়ে কাঁদতে লাগলেন।
বাবা মা এখন আমার সাথে একই বাড়িতে আছেন। একসময় তারা আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু আমি পারিনি ছাড়তে। হাজার হোক আমার বাবা মা তো।

-কন্যা আফরিন শোভা।

Saturday, July 20, 2019

আমি, বাংলা সাহিত্য ও হুমায়ূন আহমেদ

আমি, বাংলা সাহিত্য ও হুমায়ূন আহমেদ


আমি কখনো বাংলা সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট ছিলাম না। বাংলা গল্প-কবিতা তেমন পড়া হয়ে উঠেনি। যেটুকু পড়তাম তা বাধ্য হয়ে। স্কুল-কলেজে বাংলা বলে একটা সাবজেক্ট বই থাকায় সেদিকে হাত বাড়াতে হতো৷ তাও আবার ফাইনাল পরীক্ষার আগের দিন। আর, বেশির থেকে বেশি পছন্দ করতাম ছোটবেলায় পড়া বাংলা ছড়াগুলি। বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্যিকের বই পড়া বলতে আমার দৌড় তেমন একটা ছিলো না। বাংলা সাহিত্যের পেছনে যত মিটার দৌড়াতাম তা হলো তিন গোয়েন্দা সিরিজ, সাইন্স ফিকশন ও ফ্যান্টাসি আর কিছু লিপিবদ্ধ ইতিহাস।
অনেক আগে একবার কাজী নজরুল ইসলামের কোনো একটা কবিতা পড়েছিলাম। যার ভাষা আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে বোধগম্য হয়ে উঠে নি। পরবর্তিতে আমার এক স্কুল শিক্ষক কবিতার পাঠা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। লাইফে ফ্রাস্ট টাইমের মতো সাহিত্যের মজা উপলব্ধি করলাম৷ কাজী নজরুল ইসলাম তার সাধারন ভাষায় কি শক্ত বার্তাটি না দিয়ে গেছেন সেই কবিতায় ৷ তবে আমার নিকট এখনো নজরুলের লিখা গুলো কঠিন মনে হয়।
উনার লেখাগুলো বুঝতে আমার হয়তো আরো ৩ থেকে ৪ দশক লেগে যেতে পারে।
যায়হোক, মেইন পয়েন্ট থেকে ডিস্ট্রেক্ট হয়ে পড়ছি।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম'এর সেই কবিতার মূল পাঠ বোধগম্যতা পাওয়ার পর আমার এলাকার পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে রেন্ডম কিছু লেখকের বই পড়েছিলাম। এর মধে একটি বই আমার খুব ভালো লেগে যায়। বইটির নাম আমার মনে নেই। তবে সেই বইয়ের লেখকের নাম যে ছিলো হুমায়ূন আহমেদ সে জিনিসটা খেয়াল আছে৷ হুমায়ূন আহমেদকে আমি তখনো চিনতাম না।
তারপরেও তার লেখা কয়েক পিস সিরিজ বই পড়েছি।
আমি বুঝতে পারিনি যে এভাবে বাংলা সাহিত্যের প্রতি আমার টান পড়ে যাবে৷
তো এক কথায় বলতে গেলে হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের সাথে আমায় পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন৷
খাটি সত্য বাক্য হলো, বাংলা গল্প-উপন্যাস এর জন্য একটা মাস্টার পিস হলেন হুমায়ূন আহমেদ। এতে কোনো সন্দেহ নেয়।
পাঠকগন তার মিচির আলি অথবা হিমু নিয়ে মেতে থাকলেও আমার কাছে তার লেখা সবচেয়ে পছন্দের বই হলো 'আমি এবং তিনটি প্রজাপতি'৷ যা এক শিক্ষকের সাজেশনে গত বছর পড়েছিলাম৷
বর্তমানে, হুমায়ূন আহমেদের 'মানবী' বইটি পড়া শুরু করবো করবো বলেও পড়া শুরু করতে পারি নি। আমার মনে হয়, এক বছর আমার এসব থেকে দূরে থাকা উচিত।

লিখক - শাহিনুল জেমি 'র ফেসবুক প্রোফাইল থেকে...

Sunday, May 19, 2019

ফিলিস্তিনিদের ইফতারের জন্য রোনালদো দান করলেন ১৪ কোটি টাকা

ফিলিস্তিনিদের ইফতারের জন্য রোনালদো দান করলেন ১৪ কোটি টাকা

ফুটবল বিশ্বে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এক মুকুটহীন সম্রাট। যত বড় ফুটবলার, তার থেকে অনেক বড় মানুষ। বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ফুটবলারদের মধ্যে একজন তিনি।
অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি মানবতার সেবায় দু’হাতে খরচ করেন এই পর্তুগিজ তারকা। দুস্থ মানবতা এবং শিশুদের সাহায্যে বরাবরই এগিয়ে আসেন তিনি।
এবার যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনিদের ইফতারে ১.৫ মিলিয়ন ইউরো দান করলেন রোনালদো।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আয়ের বেশ বড় একটা অংশ মানবসেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন তহবিলে নিয়মিতই দান করেন। এবার আরও একবার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালেন রোনালদো।

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত মুসলমানদের ইফতারের জন্য দেড় মিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৪ কোটি ২০ লাখ ২৪ হাজার টাকা) দান করলেন জুভেন্টাসের এই তারকা।

পবিত্র মাহে রমজান মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দীর্ঘ ৩০ দিন রোজা রেখে থাকেন সারা বিশ্বের মুসলমানরা। যদিও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবার আর আগের মতো শান্তিতে রোজা রাখতে পারছে না ফিলিস্তিনের জনগণ। প্রতিনিয়ত তাদের ওপর হামলা করে যাচ্ছে ইসরায়েল।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, ইসরায়েলের হামলায় বিপর্যস্ত গাজার অসহায় মুসলমানদের ইফতারির জন্য দেড় মিলিয়ন ইউরো দান করেছেন রোনালদো। ওই টাকায় গাজার মুসলমানদের ইফতারি করানো হচ্ছে।

জুভেন্টাসের এই তারকা ফরোয়ার্ডের এমন মহিমান্বিত কর্মে প্রশংসার ঝড় বইছে মুসলিম বিশ্বে। বিভিন্ন স্থানের মুসলমানরা সম্মান জানিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলারকে।

এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে পুরস্কার গোল্ডেন বুট বিক্রি করে দিয়ে ফিলিস্তিনিদের জন্য অর্থ দান করেছিলেন রোনালদো। এমনকি পরের বছর বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ শেষে ইসরায়েল খেলোয়াড়ের সঙ্গে জার্সি বদলে অস্বীকৃতিও জানিয়েছিলেন এই পর্তুগিজ ফুটবলার।